back to top

রেকর্ড, গোল আর আধিপত্য-তিউনিসিয়াকে ভাসিয়ে দিল সুইডেন

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬ ০৫:১৪

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ছিল সুইডেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। আক্রমণ, বলের দখল এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে গিয়ে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সুইডিশরা।

ইউসেফ আয়ারির জোড়া গোলের পাশাপাশি আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দাপুটে এই জয় তুলে নেয় সুইডেন।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইডেন। তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে চাপে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। সেই চাপের ফলও আসে দ্রুত।

মিডফিল্ডার ইউসেফ আয়ারি দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে গোল করে সুইডেনকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচে গোল উৎসবের সূচনা করেন।

সুইডেনের আক্রমণভাগে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ান আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেস। তাদের গতিময় ও সরাসরি আক্রমণে বারবার বিপাকে পড়ে তিউনিসিয়ার ডিফেন্স।

ইসাক একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেন। অন্যদিকে ইয়োকেরেস একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি গোল শোধ করে তিউনিসিয়া। এতে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরার আশা জাগলেও সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেন আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় এবং বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগই দেয়।

ম্যাচের শেষদিকে আসে আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেন ম্যাটিয়াস সভানবার্গ।

প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও পরে ভিএআর পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের কীর্তি গড়েন সভানবার্গ।

এর আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ের রিচার্ড মোরালেস মাত্র ১৬ সেকেন্ডে গোল করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

তবে ম্যাচের শেষ শব্দটি লেখেন ইউসেফ আয়ারি। যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।

তার অসাধারণ ফিনিশিংয়ে ৫-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় সুইডেনের।

এই দাপুটে জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানেও উঠে এসেছে সুইডিশরা। অন্যদিকে সেট-পিস থেকে কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে বড় ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তিউনিসিয়াকে।

প্রথম মিনিট থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুইডেনের নিয়ন্ত্রণ, গতি এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা প্রমাণ করেছে কেন তারা এবারের আসরে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।