back to top

গলাসমান পানিতে জীবনের লড়াই, পাতিলে ভেসে নিরাপদে আট মাসের শিশু

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:১০

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমর কিংবা গলাসমান পানি।

এমন দুর্যোগের মধ্যেই মানবিকতা আর সাহসিকতার এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দিল ফায়ার সার্ভিস।

আট মাস বয়সী এক শিশুকে বড় একটি পাতিলে বসিয়ে নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সেই মুহূর্তের ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ভিডিওতে দেখা যায়, গলাসমান পানির মধ্যে টানানো একটি রশি শক্ত করে ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য। তাঁর এক হাতে রশি, অন্য হাতে শিশুকে বহন করা পাতিল।

পাশে আরেক সদস্য ছাতা ধরে হাঁটছেন, যাতে বৃষ্টির পানি শিশুটির গায়ে না পড়ে। চারদিকে থইথই পানি আর প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁদের সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে অনেকের।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চেচুরিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এমন খবর পেয়ে আট সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছে তারা পানিতে আটকে থাকা পাঁচ শিশু ও আট নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে স্থানান্তর করে।

উদ্ধার অভিযানের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল আট মাস বয়সী শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় একটি পাতিল ব্যবহার করে শিশুটিকে পানির ওপর ভাসিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

উদ্ধারকাজের পুরো সময় শিশুটির নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পানিবন্দী থাকার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।

আটকে থাকা নারী ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় বড় একটি পাতিলে করে আট মাস বয়সী শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেও ফায়ার সার্ভিসের এই মানবিক ও সাহসী উদ্যোগ শুধু কয়েকটি প্রাণই রক্ষা করেনি, মানুষের মনে দায়িত্ববোধ ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।