সদর দপ্তর নিয়ে টানাপোড়েন, ফটিকছড়ি উত্তরে রোববার থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৭

সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলে।

ভূজপুর থানা কার্যালয়-সংলগ্ন স্থানে প্রস্তাবিত সদর দপ্তরকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে স্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগামী রোববার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার কঠোর হরতালের ডাক দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর ফলে রোববার ভোর থেকেই স্তব্ধ হয়ে পড়তে পারে বারৈয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়ক।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক হেঁয়াকো বাজারে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই আন্দোলনের ডাক দেয় ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি’।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক ও বাগমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক।

লিখিত বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি বিন্দুমাত্র কমবে না। কারণ এটি পুরানো ফটিকছড়ি উপজেলার অত্যন্ত নিকটবর্তী।

বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে সদর দপ্তরটি বর্তমান স্থান থেকে অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে-দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে নিয়ে যেতে হবে।

এক নজরে হরতাল ও আন্দোলনের রূপরেখা:

কর্মসূচি: রোববার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার মহাসড়ক ও সড়ক অবরোধ/হরতাল।

প্রভাবিত সড়ক: বারৈয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়ক।

আওতামুক্ত সেবা: অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ যেকোনো জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না।

চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

তবে নতুন উপজেলার আনন্দের চেয়ে সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে বিষাদই যেন বেশি গ্রাস করেছে স্থানীয়দের।

এর আগেও একই দাবিতে গত ১৬ জুলাই উত্তর ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নে (নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেঁয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার) সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছিল।

সে দিন যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

কিন্তু নীতিনির্ধারক মহলের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এবার দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পথে হাঁটছেন তারা।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা-যে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য নতুন উপজেলার জন্ম, সদর দপ্তর যদি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগালের বাইরে থেকে যায়, তবে এই রূপান্তরের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

হেঁয়াকো বাজারের এই সংবাদ সম্মেলনে বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ও ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আমীন, বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এ বি এম সিদ্দিক এবং ছাত্র প্রতিনিধি শেখ জাহিদ ও মো. ইমাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

এখন দেখার বিষয়, নতুন উপজেলার সদর দপ্তর কেন্দ্রিক এই জনদাবি ও সম্ভাব্য ৪৮ ঘণ্টার হরতাল নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।