আদালতে নেওয়ার আগে প্রিজন ভ্যানে যিা বললেন ডেভিড ইমন

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৫

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বদলে ফেলেছিলেন নিজের চিরচেনা রূপ। কেটে ফেলা হয়েছিল মুখের গোঁফ, পরিবর্তন করা হয়েছিল পোশাক-আশাকও।

উদ্দেশ্য ছিল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চম্পট দেওয়া। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।

যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নিখুঁত যৌথ অভিযানে চতুরতার সব ছক ভেস্তে গেল চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয় থেকে কড়া নিরাপত্তায় যখন তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, ঠিক তখনই সৃষ্টি হয় এক নাটকীয় মুহূর্ত। কড়া পুলিশি বেষ্টনীর ভেতর থেকেই উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে ইমন বলে ওঠেন-আমার অনেক কিছু বলার আছে।

তবে তার সেই আকুতি কিংবা বিস্ফোরক বার্তা প্রকাশ্যে আসার আগেই তৎপর পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানের ভেতরে নিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই ভানের ভারী দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার গোপন খবর পেয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) ভোররাতে যশোর জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। যশোরের ঝুমঝুমপুর ও ঝিকরগাছা এলাকায় বসানো হয় আকস্মিক চেকপোস্ট।

একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় ধরা পড়েন ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীরা। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে তিনি চেহারায় আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন, কিন্তু গোয়েন্দাদের নজর এড়ানো সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা অনুযায়ী, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত সহযোগী। চট্টগ্রাম জুড়ে তার অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তৃত।

তার অপরাধের তালিকা: বাকলিয়া জোড়া খুন: চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়ায় আলোচিত জোড়া খুনের মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী। পতেঙ্গা হত্যাকাণ্ড: পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। সাম্প্রতিক তান্ডব: বন্দরনগরীর ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সশস্ত্র হামলা ও কোটি টাকার চাঁদাবাজি। মামলার পাহাড়: হত্যা, অস্ত্র, দখল ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১১টিরও বেশি গুরুতর অপরাধের মামলা ঝুলছে তার নামে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তার গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এরপরই দুপুর নাগাদ তাকে কঠোর পুলিশি প্রহারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রিজন ভ্যানে ওঠার মুহূর্তে ইমনের দেওয়া সংক্ষিপ্ত ওই বক্তব্য এখন চট্টগ্রাম জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে-‘কী সেই তথ্য, যা ডেভিড ইমন বলতে চেয়েছিলেন?’ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এখন বেরিয়ে আসবে তার অপরাধ সাম্রাজ্যের আসল অজানা অধ্যায়।