পটিয়ায় আধিপত্যের লড়াই: যুবদলের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ১৩

চমেক হাসপাতালে রেফার্ড ১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৬

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় শুরু হওয়া এই বিরোধের রেশ গড়ায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্তও।

তিন দফায় ঘটে যাওয়া এই সহিংসতায় যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ১৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত এক নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার তিন দিন আগে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। এ চুরির ঘটনায় ইরফান নামের এক কিশোরকে সন্দেহ করা হয়।

এরই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন ওই কিশোরকে ডেকে ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেন।

তবে এই পদক্ষেপে আপত্তি জানান যুবদল নেতা মো. আমজাদ। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুজনের অনুসারীরা আমজাদকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই প্রাথমিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে আমজাদের সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে সুজনসহ ৪-৫ জনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হন যুবদল নেতা মো. সুজন।

পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সংঘাত এখানেই থামেনি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে হাসপাতালের প্রবেশমুখেই আবারও মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষের লোকজন।

এতে উভয় পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, আমজাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, সুজন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলামের অনুসারী।

সম্প্রতি হুলাইন পাইরোল উচ্চবিদ্যালয়ের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও এই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর থেকেই মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. হাদী জানান, ইউপি সদস্য সুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিজেই পুলিশকে খবর দেন। এই ঘটনায় আহত ১০ জন পটিয়া হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীন বলেন, প্রথমে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের লোকজন এসে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, দুই পক্ষের মারামারির খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠানো হয় এবং দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।