বর্জ্য জমা দিয়ে ফ্রি চিড়িয়াখানা ভ্রমণের অভিনব সুযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪৪

হাতে থাকবে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য, আর বিনিময়ে মিলবে ৭০ টাকা মূল্যের চিড়িয়াখানার প্রবেশ টিকিট বিনামূল্যে!

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ।

এখন থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে ঘুরে দেখতে পারবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে আজ এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।

চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তরের পাশাপাশি চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা এবং মশকনিধন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জনসচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুরো আয়োজন।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্লাস্টিক দূষণ কমবে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে গড়ে উঠবে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করতেই প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহারের জন্য ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

তিনি জানান, এ কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারবে। যেখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।

শুধু পরিচ্ছন্নতা কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, চিড়িয়াখানাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের।

চিড়িয়াখানায় জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক শিশুদের মুঠোফোনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ফয়’স লেকসংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়ে ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র ফেলা যাবে না। বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় জেলা প্রশাসনের চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি জানান, গত ২৫ জুলাই পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), পিসিএসসি, বিএন এবং জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোঃ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।