back to top

বাঁশখালী হাসপাতালে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু, ভুল ইনজেকশনের অভিযোগে উত্তেজনা

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬ ১২:০৫

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়াতুল ইসলাম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল ইনজেকশনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই গুরুতর ছিল এবং তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকেল তিনটার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়াতুলের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনকে খবর দেন।

পরে প্রায় দেড়শ মানুষ হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ করেন এবং কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাত আটটার দিকে আয়াতুল ইসলামকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সন্তানকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোর আশায় হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন মা আসমা আকতার। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই আশার জায়গা দখল করে নেয় শোক আর কান্না।

শিশুটির মা আসমা আকতার অভিযোগ করে বলেন, “আমি সঙ্গে ছিলাম। আমার ছেলেকে গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করি। তারা মেরে ফেলেছে।

এখানে ডাক্তার থাকে না, ডাকলেও পাওয়া যায় না। বয়স্কদের ইনজেকশন আমার ছেলেকে দিয়েছে। সকালে তারা ভুল ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলেছে।”

একই অভিযোগ করেন শিশুটির পিতা সৈয়দ আহমদ। তিনি দাবি করেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক ও নার্সের ভুল ইনজেকশনের কারণেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মমিনুল হক বলেন, “রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল। হাসপাতালের সব ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত।”

শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, “বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।”

এদিকে ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন বলেন, “বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবহিত করা হয়েছে।

রোগীর অভিভাবকরা প্রশাসনিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে শিশুর মৃত্যু নিয়ে অভিভাবকরা এসেছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিশু আয়াতুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় পরিবার।

তাদের প্রশ্ন—চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া শিশুটি কেন আর জীবিত ফিরে এল না?

অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।