শিশুর পা মোচড়ের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা, পরিবারের দাবি ‘ভিডিওটি এডিট করা’

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৩২

পারিবারিক বিরোধের জেরে নরসিংদীর সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মোচড় দিয়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নরসিংদী সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রিভেনশন অফিসার লিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন শিশুটির চাচি লতা বেগম, তাঁর স্বামী কাউসার মিয়া এবং বাবা আলমাস মিয়া।

এর মধ্যে কাউসার মিয়া ও আলমাস মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক রয়েছেন লতা বেগম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকার জহিরুল মিয়া ও সাময়া আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী ছেলে রিজিক জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

এ সময় বাড়ির বিভিন্ন কাজ সামাল দেন সাময়া আক্তারের জাঁ লতা বেগম। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারিবারিক মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ জুন সেই বিরোধের জেরে লতা বেগম শিশুটির পায়ে মোচড় দিয়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি সাময়া আক্তার তাঁর মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার মাধবদী থানা-পুলিশ শিশুটির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সাময়া আক্তার পুলিশকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ‘এডিট করা’।

তাঁদের দাবি, শিশুটির পা ভাঙেনি এবং বর্তমানে তার পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টারও নেই।

তবে তাঁরা স্বীকার করেন, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে লতা বেগম শিশুটির পায়ে মোচড় দিয়েছিলেন। পরে লতা বেগমের বাবা তাঁদের বাড়িতে এসে বিষয়টি নিয়ে তাঁকে বকাঝকা করেন এবং পারিবারিকভাবে বিরোধের মীমাংসা হয়। এ কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিও এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রিভেনশন অফিসার লিজা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পরিবার মামলা না করলেও শিশুর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।