মেরিটাইম সেক্টরে কাজ করার মতো দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান ও দক্ষ জনবল রয়েছে। কিন্তু বিপুল সম্ভাবনাময় এই খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করে একে জনমুখী ও কার্যকর খাতে পরিণত করতে অতীতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এবার সেই ঘাটতি কাটিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় মেরিটাইম খাতের বিকাশে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি মিলনায়তনে World Maritime Day এবং মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার World Maritime Day পালিত হয়।
দেশি-বিদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত নাবিকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে দায়িত্ব পালন করায় নাবিকরা মানসিকভাবে দক্ষ ও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।
তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় ৭০ ভাগজুড়ে জলরাশি। সেই বিশাল জলভাগে মাত্র ১৮-২০ শতাংশ মানুষ কাজ করে পৃথিবীর মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান দিয়ে থাকেন।
নাবিকরা শুধু পণ্য পরিবহনই করেন না, তারা মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং দেশের সঙ্গে দেশের কানেক্টিভিটি তৈরি করেন। বহির্বিশ্বে তারা দেশের দূত হিসেবেও কাজ করেন।
মন্ত্রী বলেন, শিপিং লাইনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে অতীতের ব্যর্থতা দূর করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
‘এ সেক্টরে কাজ করা মানুষের জানা-বোঝার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। তবে দিনশেষে অর্জনটা অনেকটা ম্রিয়মান। কাজেই আমরা অর্জনটাকে বাড়াবার চেষ্টা করবো।’
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্য খালাস এবং জাহাজের গড় অবস্থান সময়ও অনেক কমেছে।
তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন প্রয়োজন মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। তা না হলে নেওয়া সব উদ্যোগই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
মেরিন একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা নাবিকদের চাকরির ক্ষেত্রে এক বছরের ইন্টার্নশিপ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
ক্যাডেটদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার বিষয়টি তার কাছে তুলে ধরা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সারোয়ার জামাল নিজাম এমপি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং ডি জি শিপিং কমোডর শফিউল বারী বক্তব্য দেন।
এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাহাজ মালিক ও প্রতিনিধিগণ এবং সিঙ্গাপুর, চায়না ও সাইপ্রাসের শিপিং সেক্টরের এজেন্টগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে মন্ত্রী বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে একাডেমির কম্যান্ডেন্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামিম তাকে স্বাগত জানান।
এ সময় ক্যাডেটরা কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন এবং মন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে মেরিন একাডেমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে নেতৃত্ব দেন তিনি।
