চট্টগ্রাম নগরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্য। এবার সরাসরি টার্গেটে একজন পেশাদার সাংবাদিক।
৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে তাকে—যা নগরজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিপ্লব দে পার্থ, যিনি বাংলা টিভির চট্টগ্রাম কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন নামের এক সন্ত্রাসী বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ভয়ংকর এক অডিও বার্তায় ইমন বলেন, “বোলতার বাসা বানিয়ে ফেলব… পুরো শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে, পরিবার গণনাও করতে পারবে না… ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যা করার করে ফেলেন… গুলি মানুষ চেনে না।”
এই হুমকির পরই আতঙ্কিত হয়ে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।
তিনি বলেন, “নিজেকে সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ফোন করে ইমন। টাকা না থাকায় জানালে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। পরে অডিও বার্তায় আরও ভয়ংকর হুমকি দেওয়া হয়।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন কেবল একজন সাধারণ চাঁদাবাজ নন। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
ইমনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। এরমধ্যে গেল বছরের ৩০ মার্চ নগরীর বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন মামলায় অভিযুক্ত এ ইমন। এছাড়াও একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যাসহ অন্তত ৭টি মামলার আসামি ইমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং একাধিক অস্ত্র বহনের তথ্যও রয়েছে তাদের কাছে। এমনকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, একসময় এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকায় মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাদেরই একজন হলেন মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এবং অপরজন হলেন মোহাম্মদ রায়হান।
রায়হানের বিরুদ্ধেও খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ বলছে, বড় সাজ্জাদের এই বাহিনীতে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী, যারা নিয়মিত চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নগরে ত্রাস সৃষ্টি করছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, “চাঁদা চেয়ে হুমকির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
একজন সাংবাদিককে সরাসরি হত্যার হুমকি—তা-ও আবার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মাধ্যমে—এই ঘটনা চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
নগরবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—সাজ্জাদ বাহিনীর এই ত্রাসের শেষ কোথায়?

