মানবতার কল্যাণে নিবেদিত আধ্যাত্মিক-সামাজিক সংগঠন ‘মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ’-এর ৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলন।
১৬ মে শনিবার নগরীর বহদ্দারহাটস্থ আর.বি কনভেনশন হলে দিনব্যাপি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে দেশ-বিদেশের সহস্রাধিক শাখার প্রায় ৩ হাজার প্রতিনিধি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বর্তমান সংঘাতমুখর বিশ্বে শান্তি ও জনকল্যাণ প্রতিষ্ঠায় মাইজভাণ্ডারী মানবতাবাদী দর্শন প্রসারিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ও সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী।
সম্মেলনে আলোচক ও বক্তারা বলেন, আত্মকেন্দ্রিক লোভ, মায়ামোহ ও বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের কারণে আজ সারা বিশ্বে যুদ্ধ, অশান্তি, সংঘাত ও হানাহানি ছড়িয়ে পড়েছে; বিপন্ন হচ্ছে মানবতা, মনুষ্যত্ববোধ আজ চরম সংকটের মুখোমুখি।
এমন এক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বময় শান্তি, পরমতসহিষ্ণুতা ও অসাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠার মোক্ষম মাধ্যম হচ্ছে সুফিধারা তথা শাশ্বত মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা ও দর্শন।
বক্তারা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন, মাইজভাণ্ডারী অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দর্শন প্রচার-প্রসারে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে আসছে মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ।
বক্তারা আরও বলেন, সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম মওলা হুজুর কিবলা হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)-এর দিকনির্দেশনা ও ফয়েজ-বরকতে আজ দেশ-বিদেশে মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বহুমুখী মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা ও দর্শনের আলোকে মানবিক সাম্য, সম্প্রীতিবোধ ও আত্মিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তাঁরা গাউসিয়া হক কমিটির সাথে সম্পৃক্ত থাকা নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকদের সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন।
সম্মেলনে রাহবারে আলম মওলা হুজুর হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.জি.আ.)-এর আশীষ বাণী পাঠ করে শোনান কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য ডা. সাইফুদ্দীন মাহমুদ। লিখিত বাণীতে মওলা হুজুর (ম. জি. আ.) বলেন, ‘‘নৈতিক শুদ্ধতা ব্যতীত ইনসানে কামেল হওয়া সম্ভব নয়; দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে গাউসিয়া হক কমিটিতে দায়িত্বশীল সংগঠকেরা ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়াকে সবার সামনে উন্মোচিত করছে। গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.), গাউসুল আযম বিল বিরাসাত হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (ক.), অসিয়ে গাউসুল আযম হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) এবং বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর অনুসৃত পথে চলে মানবকল্যাণকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। সংঘাতপূর্ণ বিশে^ সর্বস্তরের মানবসমাজকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাইজভাণ্ডারী দর্শনকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী বলেন, মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা ও দর্শন মানবতা ও মনুষ্যত্ববোধের দিকনির্দেশনা দেয়। একটি মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠাই এই দর্শনের মূল চেতনা ও আহ্বান।
তিনি গাউসিয়া হক কমিটির সাথে সম্পৃক্ত সংগঠকদের একতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার শিক্ষা ধারণ করার আহ্বান জানান এবং আগামী দিনে সেবামূলক কর্মতৎপরতা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন।
সম্মেলনের বিশেষ পর্বে গাউসিয়া হক মন্জিলের খাদেম হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনবদ্য ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বিশেষ “সম্মাননা স্মারক” প্রদান করা হয়।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর, ইঞ্জিনিয়ার কামালুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান, প্রফেসর ড. জসীমউদ্দীন, সৈয়দ ফরিদ উদ্দীন, জহুরুল কাদের আজাদ, শেখ মুজিবুর রহমান বাবুল।
অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন – মাওলানা নুরুন্নবী আজহারী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্যবৃন্দ, সাংগঠনিক সমন্বয়ক, পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি ও দেশবরেণ্য বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাঁদের সুচিন্তিত বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিশেষে কেন্দ্রীয় পর্ষদ এর সদস্য মাওলানা হাবীবুল হোসাইন এর পরিচালনায় মিলাদ ও কিয়াম পরিবেশন শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্বের নিপীড়িত মানবতার পরিত্রাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলনের সফল সমাপ্তি ঘটে।

