back to top

এসআই-কনস্টেবলের পর এবার ক্লোজড খুলশী থানার ওসি

বাকলিয়ায় জাহেদুল আর খুলশীতে নতুন ওসি সোলায়মান

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬ ০৬:৪৭

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর এবং পরে থানায় নিয়ে গিয়ে ফের হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় এবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।

এর আগে একই ঘটনায় অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

শনিবার (১৩ জুন) সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

একই সঙ্গে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলায়মানকে খুলশী থানার নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আর সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক জাহেদুল আলমকে বাকলিয়া থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্রীড়াঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে ঘিরে এমন অভিযোগের পর পুলিশের ভেতরেও শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা।

এদিকে, নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তিনি নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দেন এবং মারধরেও অংশ নেন।

শনিবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্তে একজন উপকমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “একই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এর আগে অভিযোগের ভিত্তিতে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করা হয়।

সেখানে পোশাকধারী তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাবি পরা সোহেল।

অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের হাতে থাকা পাইপের পাশাপাশি সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে ডিবি সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।

তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় যখন স্থানীয় লোকজন তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সোহেল তা দেখাতে পারেননি। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে আটক করে খুলশী থানায় নিয়ে যান।

জানা গেছে, সোহেল নগরের গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসবাস করেন।

এ ঘটনায় নাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মামলায় মোহাম্মদ সোহেলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। অপর দুই আসামি হলেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল।

একজন জাতীয় ক্রিকেটারকে ঘিরে এমন অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে ক্রীড়াঙ্গন, সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহল।