অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাস এখনও টাটকা। তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন আরও বড়—টি-টোয়েন্টি সিরিজে নতুন ইতিহাস লেখা।
সেই মিশনের প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামে, যেখানে তিন ম্যাচ সিরিজের উদ্বোধনী টি-টোয়েন্টিতে বুধবার (১৭ জুন) মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস।
প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন থাকলেও ঘরের মাঠে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন তিনি।
লিটনের ভাষায়, টি-টোয়েন্টি এমন একটি ফরম্যাট যেখানে প্রতিটি দলই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে।
তিনি বলেন, “এই ফরমেটটাই তো হার্ড। যে কোনো টিমই আপনাকে অ্যাটাকিং মুভমেন্টে থাকে। অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই বড় দল। তারা তাদের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবে, আমরাও আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে চাই।”
ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে বেশ ভুগতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের।
ফলে টি-টোয়েন্টিতেও টাইগারদের বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তে নিজের পরিকল্পনা পুরোপুরি প্রকাশ করতে চাননি লিটন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক জানান, উইকেটের আচরণ, কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিবেচনা করেই একাদশ চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, “কোন উইকেটে খেলছি, সারফেস কেমন হবে এবং তাদের স্ট্রেন্থ-উইক পয়েন্ট কী—সবকিছু দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুইজনের বেশি বা তিনজন পেসার খেলানোর সম্ভাবনা কম, আবার খেলতেও পারে। কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”
অন্যদিকে ওয়ানডে সিরিজে পরাজিত হলেও টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া।
অধিনায়ক মিচেল মার্শ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য সিরিজ জয়। তবে বাংলাদেশের মাটিতে কাজটা যে মোটেও সহজ নয়, সেটাও স্বীকার করেছেন তিনি।
মার্শ বলেন, “আমরা সিরিজ জয়ের আশা করছি এবং ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। তবে এটি আমাদের জন্য অবশ্যই কঠিন একটি সফর।”
বাংলাদেশের পেস ইউনিটের প্রশংসাও করেছেন অজি অধিনায়ক। ওয়ানডে সিরিজে টাইগার পেসারদের ধারালো বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করছেন, সাফল্য পেতে হলে এবারও বাংলাদেশের গতির আক্রমণের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে তাদের।
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস, ঘরের মাঠের সমর্থন এবং ইতিহাস গড়ার সুযোগ—সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের প্রথম টি-টোয়েন্টিকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
এখন দেখার বিষয়, লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, নাকি মার্শের অস্ট্রেলিয়া ফিরিয়ে আনে নিজেদের আধিপত্য।

