back to top

সবুজ, খেলাধুলা আর নাগরিক স্বস্তির নতুন অধ্যায় লিখছে জাম্বুরী মাঠ

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬ ০৭:০২

দীর্ঘদিন ধরে বেদখলের ভারে ন্যুব্জ হয়ে থাকা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ আবারও ফিরছে নগরবাসীর কাছে।

এক সময় যে মাঠটি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেছিল তার প্রাণচাঞ্চল্য, সেই মাঠ এখন আধুনিকায়ন, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের ছোঁয়ায় নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাঠটির উন্নয়নকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এবং নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ফলে বহুদিন পর আগ্রাবাদের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝে একটি বৃহৎ উন্মুক্ত সবুজ পরিসর ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নগরবাসী।

রোববার উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এ সময় তিনি প্রকল্পের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুততম সময়ে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর উদ্ধার করা হয়।

এরপর মাঠটিকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে নগরবাসী খেলাধুলা, ব্যায়াম ও বিনোদনের সুযোগ পেতে পারে।

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাঠটির চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ওয়াকওয়ে। দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে গ্যালারি সুবিধা।

পাশাপাশি ব্যাপক সবুজায়ন, নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপিং এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা সংযোজনের মাধ্যমে মাঠটিকে বহুমাত্রিক ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

ফলে এটি আর কেবল একটি খেলার মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং নগরবাসীর জন্য একটি আধুনিক উন্মুক্ত বিনোদন, স্বাস্থ্যচর্চা ও সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।

পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত সবুজ স্থান ও আধুনিক খেলার মাঠ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অঙ্গীকার।

এ লক্ষ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলামুখী করে তোলা এবং একটি সুস্থ, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে আধুনিক খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই।”

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্রুত নগরায়ণের ফলে উন্মুক্ত স্থান ও খেলার মাঠের সংকট এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এমন বাস্তবতায় আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়ন কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং নগরজীবনের মানোন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আশা প্রকাশ করেন, উদ্বোধনের পর আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ নগরবাসীর অন্যতম প্রিয় উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

একই সঙ্গে এটি চট্টগ্রামের ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

দীর্ঘদিনের দখল, অবহেলা ও অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে আগ্রাবাদের জাম্বুরী মাঠ এখন নতুন সম্ভাবনার প্রতীক।

নগরবাসীর জন্য এটি শুধু একটি মাঠের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং একটি হারিয়ে যাওয়া জনপরিসর ফিরে পাওয়ার গল্প।