চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান উন্নয়নকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের কারণে আগামী রবিবার (২১ জুন) নগরের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সাময়িক পানি সংকটের মুখে পড়তে হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, হিজড়া খালের কাপাসগোলা ব্রিজের নির্মাণকাজের সুবিধার্থে তাদের ৪৫০ মিলিমিটার ব্যাসের এমএস পাইপলাইনের অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের কাজ করা হবে।
এ কারণে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টা কালুরঘাট বুস্টার পাম্প স্টেশন সম্পূর্ণ শাটডাউন (বন্ধ) রাখা হবে।
শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালের কাপাসগোলা ব্রিজের কাজ চলছে।
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নগরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।
ফলে উন্নয়নকাজের সুবিধা ভবিষ্যতের জন্য হলেও সাময়িক ভোগান্তির বোঝা বহন করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাইপলাইন স্থানান্তরের কাজের কারণে কালুরঘাট বুস্টার পাম্প স্টেশন বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প নেই।
আর এই শাটডাউনের ফলে নগরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হবে।
ওয়াসার তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—আরাকান রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, নবাব সিরাজদ্দৌলা রোড ও আশপাশের এলাকা, চকবাজার, চন্দনপুরা, বাকলিয়া, আন্দরকিল্লা, খাজা রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকা, শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক ও আশপাশের এলাকা, কেবি আমান আলী রোড, রাহাত্তারপুল, মিয়া খান নগর রোড, কালামিয়া বাজার, করলক আবাসিক, তুলাতলী এবং রাজাখালী এলাকা।
পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে পরিবার, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খাবারের দোকান, হাসপাতাল-সংলগ্ন সেবা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নগরের অনেক বাসিন্দার জন্য ১৮ ঘণ্টা হয়তো একটি দিনের অংশমাত্র, কিন্তু পানি ছাড়া সেই সময়টুকু কাটানো সহজ নয়।
তাই শাটডাউনের ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পানির সংরক্ষণে উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে সরবরাহ বন্ধ থাকাকালে নিত্যদিনের কাজ ব্যাহত না হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।
একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করে রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নগরের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাময়িক জনভোগান্তি অনেক ক্ষেত্রে অনিবার্য হয়ে ওঠে।
তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আগাম তথ্য প্রদান, বিকল্প ব্যবস্থা এবং নাগরিক প্রস্তুতি ভোগান্তির মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রবিবারের শাটডাউনও তেমন একটি পরীক্ষা, যেখানে উন্নয়নকাজের প্রয়োজনীয়তা ও নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

