back to top

দোকান ভাড়ার বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড, আদালতে দোষী সাব্যস্ত সুজন

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬ ০৮:০৫

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার শপিং কমপ্লেক্সে আবু নাছের নামে এক যুবককে কাঁচি দিয়ে হত্যা মামলায় ইসমাইল হোসেন সুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত

একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিচারিক কার্যক্রমে মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না দণ্ডিত আসামি ইসমাইল হোসেন সুজন। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের নাছের আহম্মদের ছেলে।

পরে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ রাতে পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার শপিং কমপ্লেক্সে খুন হন সীতাকুণ্ড উপজেলার আবু তাহেরের ছেলে আবু নাছের।

তিনি ওই বিপণি কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় ‘মমতাজ টেলিকম’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।

একই তলায় ‘ফেরদৌস ওয়াহিদ এস এম টেলিকম’ নামে আরেকটি দোকান ছিল। ওই দোকানের একটি অংশ ভাড়া নিয়ে মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন ইসমাইল হোসেন সুজন।

পরে ২০১৭ সালের ৬ মার্চ তিনি দোকান পরিবর্তন করে একই বিপণি কেন্দ্রের ‘জননী টেলিকম’-এ কাজ শুরু করেন। তবে বিষয়টি আগের দোকানের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদকে জানাননি।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ১০ মার্চ ফেরদৌস ওয়াহিদ বকেয়া ভাড়া চাইলে সুজন এক হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এর পরও বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করায় ২৪ মার্চ রাতে ফেরদৌস ওয়াহিদ আবু নাছেরকে সঙ্গে নিয়ে সুজনের কাছে টাকা চাইতে যান।

এ সময় জননী টেলিকমের ভেতরে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে সুজন কাঁচি দিয়ে আবু নাছেরের বুকে ও তলপেটে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আবু নাছেরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নিহতের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় নয় বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।