চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে সরকারি ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার অনুদান বিতরণে সুবিধাভোগী নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে—দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ও ঘনিষ্ঠ বলয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনুদানপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
একই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তালিকায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন—বুলু আকতার, হাসনা খাতুন, হোসনেরা বেগম, মুছাৎ হোসনেরা বেগম, রাজিয়া আকতার, হানিফাতুল মোজাহেবা, আজিজুল হক ও মরিয়ম বেগম।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এরা পরস্পরের পরিচিত এবং একই সামাজিক ও পারিবারিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।
অভিযোগ আরও বলছে, শুধু একই গ্রামের বাসিন্দাই নন, তালিকায় সংসদ সদস্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নামও রয়েছে।
চট্টগ্রামের চাকতাই এলাকায় অবস্থিত ‘আলম ট্রেডিং’-এর কর্মচারী হিসেবে পরিচিত জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ শাকেল, মো. ওমর ফারুক এবং পিকলু চৌধুরীর নাম অনুদান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত গৃহস্থালি পর্যায়ের কর্মচারীদের নামও তালিকায় থাকার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর এবং টি-বয় তানজিমুল হক আহাদের নামও সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অনুদান বণ্টনের মানদণ্ড ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ঐচ্ছিক তহবিল সাধারণত সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য বরাদ্দ হয়ে থাকে।
ফলে একই গ্রাম, একই পারিবারিক ও ব্যবসায়িক বলয়ের মধ্যে সুবিধাভোগী তালিকা সীমাবদ্ধ থাকায় নীতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এবং পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া বলেন, “আমরা এই বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। সরকারি অর্থের বণ্টনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি তহবিল ব্যবহারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টন ঘিরে পটিয়ায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন আর শুধু স্থানীয় আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই—বরং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
তদন্তের দাবি জোরালো হওয়ায় বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই নজর স্থানীয়দের।

