back to top

নকআউটের দরজায় দাঁড়িয়ে ইরান, ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাঁচল মিসর

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬ ০৮:১৩

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচ শেষে দুই দলের অনুভূতি ছিল দুই মেরুর।

একদিকে ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে মিসর, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের এক সিদ্ধান্তে হতাশা আর অনিশ্চয়তায় ডুবে আছে ইরান

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে মিসর।

তবে ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে এমন নাটকীয়তা দেখা গেছে, যা হয়তো দীর্ঘদিন মনে রাখবেন দুই দলের সমর্থকেরা।

শেষ দিকে ইরানের জন্য যেন স্বপ্নের দরজা খুলে গিয়েছিল। যোগ করা সময়ে শোজায়ে খলিলজাদেহ বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন ইরানি খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

সেই গোলই তাদের সরাসরি শেষ ৩২-এ পৌঁছে দিতে পারত। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন। মুহূর্তেই উল্লাস বদলে যায় হতাশায়।

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপে মিসর ও ইরান—দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়ায় পাঁচ। তবে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে মিসর। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।

অন্যদিকে ইরানের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর। গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকা দলটি সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারে।

বর্তমান হিসাব বলছে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনো বেশ উজ্জ্বল—প্রায় ৯২ শতাংশ।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, বল দখলে এগিয়ে ছিল মিসর। কিন্তু আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল ইরান। দলের হয়ে সমতাসূচক গোল করেন রামিন রেজাইয়ান।

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। তবে শেষ মুহূর্তের ভিএআর সিদ্ধান্তের পর সেই পুরস্কার গ্রহণেও ছিল না স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস; মুখজুড়ে ছিল হতাশার ছাপ।

মিসরের জন্য অবশ্য নকআউট নিশ্চিত হওয়ার আনন্দের মধ্যেও রয়েছে কিছু দুশ্চিন্তা। দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ ৫৭তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে বেঞ্চে বসে তার পায়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

এর আগেই ম্যাচের শুরুতে চোটে মাঠ ছাড়তে হয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আবদেলমোনেমকে। নকআউটের আগে এই দুই ফুটবলারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাই উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

তবে সব শঙ্কাকে ছাপিয়ে মিসরের জন্য এটি স্মরণীয় এক রাত। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব অপরাজিত থেকে শেষ ৩২-এ উঠেছে তারা।

শুধু তা-ই নয়, টানা তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তিও গড়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি—যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাইলফলক।

অন্যদিকে শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। ইরানের অনেক খেলোয়াড় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

ডাগআউটে একা বসে ছিলেন প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি। মাত্র একটি সিদ্ধান্ত তাদের সরাসরি নকআউটের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে।

তবু আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এখন অপেক্ষা অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের। সেই ফলই নির্ধারণ করবে, ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান আরও কিছুটা পথ এগোবে, নাকি থেমে যাবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক এক সন্ধ্যার স্মৃতি হয়ে।