back to top

চট্টগ্রামের জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ, সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬ ১১:২৪

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

টানা তৃতীয় দিনের মতো এদিন আসামিপক্ষে ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান।

তিনি আদালতে দাবি করেন, মামলায় কোনো আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান নেই। একই সঙ্গে তদন্তও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম।

এর আগে ২৮ জুন তিনি তাঁর মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন।

এরও আগে, ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২২ জুন আদালতে যুক্তি তুলে ধরে জানায়, প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা উচিত।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের সব শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন—চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।

তবে সোমবার ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আর ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন আদালতে ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের আদেশের মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত মামলায় অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানা যাবে।