back to top

উখিয়ায় ড্রামের ভেতর মিলল ইয়াবার বড় চালান, আটক শাকিলা-পালালেন সহযোগী

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:২১

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ এক প্লাস্টিকের ড্রাম। গৃহস্থালির চেনা কোনো অনুষঙ্গ ভেবে যে কেউ এড়িয়ে যাবেন।

কিন্তু সেই সাধারণ ড্রামের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা। যার নীল দংশনে ধ্বংস হয়ে যেতে পারত হাজারো তরুণ-তরুণীর জীবন।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি। র‍্যাবের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি উখিয়ার মাদক কারবারিরা। অভিনব এই মাদক পাচার কৌশলের পেছনের অন্ধকার জাল ভেদ করে শাকিলা শারমিন রেশমী (২২) নামের এক তরুণীকে আটক করেছে র‍্যাব-১৫।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে টেকনাফের হোয়াইক্যং র‍্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়িতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

র‍্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে হাজিরপাড়া এলাকার ওই বাড়িটি ঘেরাও করে র‍্যাবের একটি চৌকস দল। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়েই ঘরের ভেতর হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয় ঘরের বাসিন্দা শাকিলা শারমিন রেশমীকে। তবে র‍্যাবের চোখ এড়িয়ে ক্ষিপ্রতার সাথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন রেশমীর এক সহযোগী।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালানো হয় রেশমীর ঘরে। একপর্যায়ে ঘরের কোণে রাখা এবং ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি প্লাস্টিকের ড্রাম দেখে সন্দেহ হয় অফিসারদের। ড্রামটি খুলতেই বেরিয়ে আসে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবার এক বিশাল চালান।

যে বয়সে রঙিন স্বপ্ন দেখার কথা, ক্যারিয়ার গড়ার কথা, সেই বয়সে শাকিলা শারমিন রেশমী জড়িয়ে পড়েছেন মাদকের মতো এক মরণনেশার অন্ধকার জগতে।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেশমী স্বীকার করেছেন মাদক ব্যবসার সাথে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা।

টাকার লোভ নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি এই তরুণীকে এই পথে নামিয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, “আটক নারী ও তার পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ইয়াবাসহ আটক রেশমীকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”

পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে এবং এই চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।