টানা বর্ষণে আবারও জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানি ঢুকেছে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও রেললাইনে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। জলাবদ্ধতার প্রভাবে মঙ্গলবার সকালে রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
অতিরিক্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়া রেললাইনের কারণে জান আলী হাট স্টেশনে আটকা পড়ে দুটি ট্রেন।
আরও পড়ুন
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টির কারণে ষোলশহর থেকে জান আলী হাট রুটের বিভিন্ন অংশে রেললাইনের ওপর পানি উঠে যায়।
নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
এর ফলে ঢাকা থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস জান আলী হাট স্টেশনে আটকা পড়ে।
এদিকে, রেললাইনের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনটিকেও পথিমধ্যে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়।
প্রবাল এক্সপ্রেসের যাত্রী কামাল উদ্দিন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার থেকে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। কিন্তু রেললাইনে অতিরিক্ত পানি ওঠায় ট্রেনটি সামনে এগোতে পারছে না। দীর্ঘ সময় ধরে তারা দোহাজারী স্টেশনে অপেক্ষা করছেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবুজাফর মজুমদার বলেন, টানা বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় জান আলী হাট স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে।
তবে পানি কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, দিনের বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।
বিভিন্ন হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও জমে যায় বৃষ্টির পানি। কোথাও কোথাও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
নগরবাসীর অভিযোগ, ভারী বৃষ্টি হলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে; জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের প্রত্যাশা, পানি নেমে গেলে রেল চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

