back to top

রামোসের শেষ মুহূর্তের হেডে বাঁচল পর্তুগাল, শেষ হলো মদরিচের বিশ্বকাপ

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৫

ম্যাচ শুরুর আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, বিশ্বকাপের মঞ্চে বিদায়টা কার হবে? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নাকি লুকা মদরিচ?

ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তির একজনের বিশ্বকাপ-অধ্যায় শেষ হওয়ার আশঙ্কা ছিল টরন্টোর এই নকআউট লড়াইয়েই।

৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময় পর্যন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর বারবার বদলেছে। কখনো মনে হয়েছে রোনালদোর বিশ্বকাপ-স্বপ্ন এখানেই থেমে যাবে, আবার কখনো মনে হয়েছে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামা মদরিচের পথচলাই শেষ হতে যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত ভাগ্য হাসল রোনালদোর দিকে। আর বিদায়ের বেদনা সঙ্গী হলো মদরিচের।

যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে ক্রোয়েশিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠে পর্তুগিজ শিবির, আর নীরবে শেষ হয়ে যায় মদরিচের দীর্ঘ বিশ্বকাপ-অধ্যায়।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের হাতে। প্রথমার্ধে ৫৯ শতাংশ বলের দখল রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় রবার্তো মার্তিনেসের দল।

রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস, রাফায়েল লেয়াও ও জোয়াও কানসেলো বারবার ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ ছিলেন দুর্ভেদ্য।

অন্যদিকে মদরিচের নেতৃত্বে ক্রোয়েশিয়া ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে পাল্টা আক্রমণের সুযোগের জন্য।

বিরতির পরই বদলে যায় ম্যাচের গল্প। ৫৩ মিনিটে জোসিপ স্তানিসিচের তৈরি করা আক্রমণ থেকে জোরালো শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। মুহূর্তেই চাপে পড়ে যায় পর্তুগাল।

তবে প্রতিক্রিয়া জানাতে বেশি সময় নেয়নি তারা। ৫৮ মিনিটে লেয়াওয়ের দারুণ শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তিন মিনিট পর রোনালদো বল জালে পাঠালেও খুব সামান্য ব্যবধানে অফসাইড হওয়ায় গোলটি বাতিল হয়।

শেষ পর্যন্ত ৬৪ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। কর্নার থেকে রেনাতো ভেইগাকে বক্সের ভেতর জড়িয়ে ধরেন নিকোলা ভ্লাসিচ। ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

৬৮ মিনিটে স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফেরান রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। পেতার সুচিচ একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

৮১ মিনিটে রোনালদোকে তুলে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামান মার্তিনেস। মাঠ ছাড়ার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল—এটাই কি বিশ্বকাপে রোনালদোর শেষ স্পর্শ?

কিন্তু পর্তুগালের গল্পে তখনো শেষ দৃশ্য বাকি ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন রেফারি। সেই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে লেয়াওয়ের ভাসিয়ে দেওয়া নিখুঁত ক্রসে ইয়োস্কো ভার্দিওল ও পংরাচিচকে টপকে অসাধারণ এক হেড করেন রামোস।

পোস্ট ঘেঁষে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পর্তুগিজ ডাগআউট। বেঞ্চে থাকা রোনালদোও ছুটে এসে সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপনে যোগ দেন।

তবে নাটক তখনো শেষ হয়নি। রামোসের গোল, উদ্‌যাপন এবং বদলির কারণে যোগ করা সময় আরও দীর্ঘ হয়।

শেষ দিকে ভার্দিওল বল জালে পাঠালেও পাশালিচ অফসাইডে থাকায় সেই গোলও বাতিল করেন রেফারি। নির্ধারিত ১০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় শেষ পর্যন্ত গড়ায় প্রায় ১৯ মিনিটে।

৪০ বছর বয়সী মদরিচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থেকে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পর্তুগালের রক্ষণ আর ভাঙতে পারেননি।

শেষ বাঁশির পর ফুটবল উপহার দেয় আরেকটি স্মরণীয় দৃশ্য। রোনালদো এগিয়ে গিয়ে আলিঙ্গন করেন সাবেক সতীর্থ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু মদরিচকে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই কিংবদন্তির মিলিত অভিজ্ঞতা অর্ধশতাব্দীরও বেশি; সেই অভিজ্ঞতার মতোই আবেগময় ছিল তাদের সংক্ষিপ্ত আলিঙ্গন।

এরপর শুরু হয় পর্তুগালের উৎসব। তবে উদ্‌যাপনের সময় খুব বেশি নেই। কারণ শেষ ষোলোয় তাদের অপেক্ষায় রয়েছে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেন।