back to top

পাহাড়ে নিষ্ঠুরতার পরিণতি: শিশু হত্যায় বাবু শেখের ফাঁসি

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখের (৪৫) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিচার শুরুর মাত্র ১২ কার্যদিবসের মধ্যেই বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ চট্টগ্রামের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি বাবু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, আদালত আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর টানা শুনানি শেষে ১২ কার্যদিবসের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, নিহত শিশুটির বাবা পেশায় একজন টমটমচালক। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটি সীতাকুণ্ডের একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড ইকোপার্কসংলগ্ন এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার পর তাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ রাতে তার মৃত্যু হয়।

মামলার তদন্তে উঠে আসে, শিশুটির বাবার সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবু শেখ।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাবু শেখ শিশুটিকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে আনেন।

এরপর বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।

সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং পরে ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

ঘটনার দিন দুপুরে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক পাহাড়ে গলা কাটা অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান।

রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে হেঁটে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল সে।

পরে শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়। তিনি সীতাকুণ্ডে নিহত শিশুটির পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন।

তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

এরপর ২১ জুন থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

দ্রুত তদন্ত, টানা সাক্ষ্যগ্রহণ এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় আলোচিত এই মামলার রায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের বার্তা দিয়েছে।

একই সঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।