বন্যা শেষে ঘর মেরামতেও সহায়তার আশ্বাস, সাতকানিয়ায় ত্রাণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকারের সহায়তার বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শুধু চলমান দুর্যোগ মোকাবিলাই নয়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

সোমবার সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর গ্রহণ এবং ত্রাণ বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বন্যাদুর্গত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

তিনি দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি দুর্গত, অসহায় ও খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জরুরি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর মেরামতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে যাদের ফসলের জমি, মাছের ঘের কিংবা গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যার প্রথম দিন থেকেই উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিরলসভাবে কাজ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যও শুরু থেকেই ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ও তদারকির জন্য তিনি সাতকানিয়ায় এসেছেন বলেও জানান।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সোমবারের কর্মসূচি শুরু হয় দুপুর ১২টায় ইকবাল কনভেনশন সেন্টার থেকে। পরে কেওচিয়া হাইস্কুলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সহায়তায় ৩০০ জন, ধর্মপুর বিশ্বর বাড়িতে ৩০০ জন এবং বাজালিয়া মাহালিয়া রাস্তার মাথায় জাগরণী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৫০০ জন বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৫০০ কার্টন বিস্কুট এবং ৫০০ প্যাকেট চাল বিতরণ করা হয়।

ডেমশা ইউনিয়ন পরিষদে জেলা পরিষদ চট্টগ্রামের সহায়তায় আরও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।