ম্যাচের ঘড়িতে তখন শেষ কয়েক মিনিট। ইংল্যান্ডের চোখে ভাসছে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্ন।
কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তারই আরেক নাম, সেটিই যেন আবারও মনে করিয়ে দিল আর্জেন্টিনা।
মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আগামী রবিবার শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্ক্যালোনির দল।
প্রথমার্ধে গোলের দেখা না মিললেও উত্তেজনার কমতি ছিল না। শরীরি ফুটবলের লড়াইয়ে দুই দলই একে অন্যকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে।
১৯টি ফাউলে ভরা প্রথম ৪৫ মিনিট দেখে অনেকের মনেই যেন ভেসে উঠেছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতীকী প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্মৃতি।
তবে এত লড়াইয়ের পরও গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের গতি বদলে দেয় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে দলীয় এক দারুণ আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় থমাস টুখেলের দল।
মাঝমাঠে নেমে হ্যারি কেইনের আক্রমণ গড়ার প্রচেষ্টা প্রথমে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে থেমে গেলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান মরগান রজার্সের কাছে।
তাঁর নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এক ছোঁয়ার শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ চালালেও তাদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান জর্ডান পিকফোর্ড।
৬৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে নিকোলাস গঞ্জালেসের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক। সাত মিনিট পর আবারও আর্জেন্টিনা গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায়।
আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল থেকেও নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে ইংল্যান্ডকে স্বস্তি এনে দেন পিকফোর্ড।
তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতিরোধও ভাঙে। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত শট জড়িয়ে যায় জালে।
এতক্ষণ দুর্ভেদ্য থাকা পিকফোর্ডও এবার ছিলেন অসহায়। সমতায় ফিরে নতুন করে ম্যাচে প্রাণ ফেরায় আর্জেন্টিনা।
সমতা ফেরার পরও থামেনি স্ক্যালোনির দলের আক্রমণ। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে আবারও পোস্টে আঘাত হানে ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রচেষ্টা। তবু আক্রমণের ধার কমেনি।
অবশেষে যোগ করা সময়ে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লিওনেল মেসির দারুণ এক ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে কাছ থেকে হেডে জালে পাঠান বদলি ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ।
মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের এই ব্যবধানই ধরে রাখে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নাটকীয় এই জয় তাদের টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।
অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো ইংল্যান্ডের।
আর আর্জেন্টিনার সামনে এখন নতুন ইতিহাস লেখার হাতছানি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন।
