পরীক্ষার হলে এআই-নির্ভর নকল, চট্টগ্রামে মুঠোফোনসহ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:২২

প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর গোপনে সেটির ছবি তুলে নেন এক পরীক্ষার্থী। এরপর সেই ছবি মুঠোফোনের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাপে দিয়ে জেনে নেন উত্তর।

সেই উত্তরই আবার পরীক্ষার হলে বসে দেখে দেখে নকল করছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

কেন্দ্র পরিদর্শকের কাছে ধরা পড়ার পর মুঠোফোন সঙ্গে রাখা ও নকল করার অপরাধে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজ সোমবার চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষায় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রের এ ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী নগরের একটি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, নগরের একটি কলেজের মানবিক বিভাগের এক পরীক্ষার্থী মুঠোফোনসহ ধরা পড়েন।

তিনি মুঠোফোন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকল করছিলেন। পরে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। মুঠোফোনটিও জব্দ করা হয়েছে।

আজকের পরীক্ষায় পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র এবং খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান-এই ৫ জেলার ১১৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আজ উপস্থিত ছিলেন ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে, চট্টগ্রামে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ২০২ জন।

এ ছাড়া কক্সবাজারে ২৬৩ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫৪ জন, রাঙামাটিতে ১০৯ জন এবং বান্দরবানে ৯৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের বাকি পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।

এর আগে ৮ জুলাই থেকেও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ছিল।

তবে এ সময় দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অব্যাহত ছিল।

এরই মধ্যে চট্টগ্রামে স্থগিত পরীক্ষা পুনরায় শুরু হওয়ার দিনে পরীক্ষার হলে এআই ব্যবহার করে নকলের ঘটনা সামনে এল।

প্রযুক্তির সহায়তায় নকলের এই অভিনব কৌশল শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র পরিদর্শকের নজর এড়াতে পারেনি।

মুঠোফোন জব্দের পাশাপাশি বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়েছে ওই পরীক্ষার্থীকে।