লোহাগাড়া প্রতিনিধি: অবাজি এই পর্যন্ত ঠাকুরদিঘী-জঙ্গল পদুয়া সড়কটি ৩০বারের উপরে পরিমাপ করছে,কাজের কাজ কোন কিছুই তো হয়নি। ছবি তুলতেছেন কয়বার তুলবেন,এরকম ছবিও অনেকবার তুলছে।
বার বার লোক আসে, পরিমাপ করে নিয়ে যায়,তারপর কোন খবর থাকেনা। এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া সাদেক সিকদার পাড়ার আবদুল খালেক।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ঠাকুরদিঘী-জঙ্গল পদুয়া সড়কের বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
গর্ত বেশি থাকার কারণে এলাকার লোকজন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও গাড়ি চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মধ্য পড়তে হচ্ছে। সড়কটি টেন্ডার প্রক্রিয়া হওয়ার পরেই ঠিকাদার কোন কাজ করেননি। ফলে সড়কটি টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে যায়, উপজেলার ঠাকুরদিঘী-জঙ্গল পদুয়া সড়ক। সড়কটি দিয়ে হাজার হাজার মানুষের চলাচল, শত শত গাড়ি চলাচল করে থাকে। চলাচল করে থাকে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা।
সড়কে গেল ভারি বর্ষণের কারণে বড় বড় গর্ত,সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কটি বান্দরবান পার্বত্য এলাকায় দিয়েই অতিবাহিত করছে। সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই।
বিশেষ করে গর্ভবতি মহিলাদের হাসপাতালে গাড়িতে করে নেওয়ার পথে সড়কেই মাঝে গাড়িতেই ডেলিভারি হয়ে যায়, আবার অনেক গর্ভবতি মহিলারা কস্টে যেতে হচ্ছে হাসপাতালে।
ঠাকুরদিঘী-জঙ্গল পদুয়াগামী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি বান্দরবানগামী যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংস্কারের অভাবে এখন এটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এক সময়ের সলিং করা প্রশস্ত সড়কটি এখন বড় বড় গর্ত ও খাদে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল করছেন যানবাহন চালক, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যান।
উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে টেন্ডার আহ্বান করা হলে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির দায়িত্ব পায়। গেল বছরের ২ ডিসেম্বরে কার্যাদশ দেয়। বহি বিশ্বঃ যুদ্ধের কারণে কাজটি করেনি ঠিকাদার।
আবছার কন্সট্রাকশন কাজ পাই। ভোটের দোহায় নিয়ে কাজ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঈদের পরে কাজ শুরু করার কথা থাকলে অপারগতা প্রকাশ করে।
ঠিকাদারের তালবাহনা শুরু করায় এক পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে চিঠি প্রদান করে। কাজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ায় কাজটি বাতিল করা হয়। রি-টেন্ডারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
টেন্ডার বাতিল হওয়ার পরেই সড়কটি নতুনভাবে পুনঃ টেন্ডারের জন্য পরিমাপ করতে যান উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ।
জঙ্গল পদুয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উত্তর পদুয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ও গোলাম কিবরিয়া বলেন, সড়কটি ৩০বারের উপরে পরিমাপ করা হলেও কাজের কাজ কোন কিছুই হয়নি। সড়কটি দিয়ে চলাচলে আতংকে থাকতে হয়। দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সড়কটি দিয়ে চলাফেরা বড় দায়।বাড়ি থেকে পায়ে হেটে স্কুলে যাওয়ার সময় কাপড়-চোপড়ে গর্তের পানি ছিটকে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিক উদ্দীন বলেন, ‘সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।সম্প্রতি বন্যা হওয়ায় সড়কের গর্ত গুলো বড় পরিসরে সৃষ্টি হয়েছে। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার জরুরি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আমানুল হক আমান মেম্বার বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ জীবন-জীবিকার অর্জনের জন্য যাতায়াত করে,শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে টেন্ডার আহ্বান করা হলে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির দায়িত্ব পায়।
বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে ঠিকাদার অপারগতা প্রকাশ টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। নতুনভাবে পুণঃ টেন্ডারের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করলে এলাকার মানুষের জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, ঠাকুরদিঘী-জঙ্গল পদুয়া সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। যার কারণে বেড়েছে দুর্ভোগ। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থা।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির আওতায়) এই সড়কটি।
বিগত ২৫-২৬ অর্থ বছরের মালামালের দাম বৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারের অপরাগতা প্রকাশ করায় আমরা টেন্ডারটি বাতিল করেছি।নতুনভাবে ২৬-২৭ অর্থ বছরের পল্লী সড়ক সেতু রক্ষনাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রাক্কালন কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি।
জেলা অফিসে দ্রুত মিটিং এর মাধ্যমে এগুলো অনুমোদন করা হবে। আমরা খুবই আশাবাদী, এই বছরের মধ্যে সড়কটি অনুমোদন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে, কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে।
