ফেসবুকে লাইভে এসে জ্যোতিকা জ্যোতির মানসিক ও আর্থিক সংকটের করুণ বার্তা

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫৩

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ে নতুন কাজ না পাওয়া, সামাজিক মাধ্যমে ধারাবাহিক ট্রল ও ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং পেশাগতভাবে একঘরে করে রাখার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি।

প্রায় দুই বছর ধরে নতুন কোনো কাজ পাচ্ছেন না দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ কর্মহীনতার প্রভাব পড়েছে তার মানসিক ও আর্থিক জীবনে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জ্যোতিকা।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাকে কাজের বাইরে রাখছে। তবে এ সময় তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।

লাইভে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে জ্যোতিকা বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব কিনা জানি না।’

একপর্যায়ে নিজের দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

তার কথায়, গত প্রায় দুই বছর ধরে অভিনয়ে নিয়মিত কাজ না থাকায় পেশাগত জীবন কার্যত থমকে গেছে।

এর সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

জ্যোতিকা জানান, বিভিন্ন গ্রুপিং ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান। তার অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল তাকে পেশাগতভাবে দূরে সরিয়ে রাখছে।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে তাকে ঘিরে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটূক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। একই সময়ে একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানান তিনি।

এসব পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও পারেননি বলে দাবি করেন জ্যোতিকা।

পেশাগত সংকটের পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার কথাও অকপটে তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় অর্থনৈতিক সংকট বেড়েছে। এমনকি অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকেও আর্থিক সহায়তা নিতে হচ্ছে তাকে।

বাবা-মায়ের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিচ্ছে উল্লেখ করে জ্যোতিকা বলেন, ‘আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না, আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে।’

তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দীর্ঘ কর্মহীনতা শুধু তার পেশাগত জীবনেই নয়, ব্যক্তিগত ও মানসিক জীবনেও গভীর চাপ তৈরি করেছে।

লাইভে বর্তমান সরকারের প্রতিও আবেদন জানান জ্যোতিকা জ্যোতি। চলমান পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান চান তিনি, যাতে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন এবং নিজের পেশায় কাজ করার সুযোগ পান।

তার আকুতি-রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক বিতর্ক কিংবা নানা অভিযোগের বাইরে একজন শিল্পী হিসেবে যেন তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পান।

জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অতীতে নানা আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে।

আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন।

একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তার কর্মস্থল ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সে সময়ও ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি।

তবে এবার তার বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অভিনয়জীবনে দীর্ঘ কর্মহীনতা, সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণ, আর্থিক সংকট এবং পেশাগতভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি।

দীর্ঘদিনের এই সংকটের কথা বলতে গিয়ে লাইভে জ্যোতিকা জ্যোতির কান্না তাই নতুন করে সামনে এনেছে একজন শিল্পীর পেশাগত অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কঠিন বাস্তবতাকে।