সকালের সড়কে লাশ আর কান্না, সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৯

সকালের ব্যস্ত মহাসড়কে হঠাৎ বিকট শব্দ। মুহূর্তেই বদলে গেল চারপাশের দৃশ্য। দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ল একটি বাস।

ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন ৮ যাত্রী। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেল আরও এক শিশু।

সিলেটের ওসমানীনগরে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মোট ৯ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন।

শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার খাসিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, খাসিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। ইউনিক পরিবহনের বাসের ভেতর আটকে পড়েন অনেকে।

স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৮ যাত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত এক শিশুকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

আহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের বেশির ভাগও ওই বাসের যাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই বাসের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। হতাহতদের অবস্থা দেখে তাঁরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। তাঁদের কয়েকজন দুর্ঘটনার জন্য বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকে দায়ী করেছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাস উপজেলার দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

ওসি গোলাম মোস্তফা আরও জানান, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশির ভাগও ওই বাসের যাত্রী। এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

সকালের এই দুর্ঘটনায় একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা-সব মিলিয়ে ওসমানীনগরে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

দুর্ঘটনার কারণ কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগও এখন সামনে এসেছে।