চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ইউনানী ওষুধ বিক্রির অভিযোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চারজনকে আটক করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে তাদের আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন তাদের হেফাজতে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই চার ব্যক্তি কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় ঘুরছিলেন।
নিজেদের ‘অভিজ্ঞ ইউনানী চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ বিক্রি করছিলেন। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে চেম্বারও বসানো হয়।
বিশেষ করে নারী, প্রবীণ এবং দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন-এমন মানুষের কাছে তারা বিভিন্ন রোগ স্থায়ীভাবে ভালো করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওষুধ বিক্রি করছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে স্থানীয়রা চিকিৎসক হিসেবে পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা পেশায় কাজ করার বৈধ নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান।
এ সময় অভিযুক্তরা কোনো স্বীকৃত মেডিকেল সনদ, নিবন্ধন কিংবা সরকারি অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে জানা যায়।
এরপর স্থানীয়রা চারজনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক যাচাইয়ে জানা যায়, চিকিৎসক পরিচয়ে ওষুধ বিক্রি করলেও আটক চার ব্যক্তি স্বীকৃত কোনো চিকিৎসক নন। যাচাইয়ে আরও জানা যায়, তাদের কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির বেশি নয়।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে ইউনানী ওষুধ বিক্রি করে আসছিলেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-জামালপুর সদর উপজেলার মুসলিমাবাদ এলাকার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ ইনসান ও মোহাম্মদ আকিরুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ সম্পূর্ণ ভালো করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ বিক্রি করতেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে অনেকেই ওষুধ কিনেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এতে একদিকে মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে অনুমোদনহীন চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণা এবং অনুমোদনহীন চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চিকিৎসক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অনুমোদন ও বৈধতা ছাড়া কেউ চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে কি না-তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
