বায়েজিদ থানাধীন ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের মতো একটি মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড আহ্বায়ক মো. ফিরোজ মাহমুদের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। কোনো তদন্ত বা শোকজ নোটিশ ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও মানবিক উদ্যোগ
গত ১৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব শহীদনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সহায়তায় এক বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়। ওয়ার্ড আহ্বায়ক মো. ফিরোজ মাহমুদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ ক্যাম্পে এলাকার ৩৪৭ জন দরিদ্র মানুষকে চোখের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ৬৫ জনের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানবিক এ উদ্যোগটি এলাকায় প্রশংসা পেলেও কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্দেশে দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফিরোজ মাহমুদের পদ স্থগিত করা হয়। একই সাথে সালাউদ্দীন কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলীয় অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের বলি হয়েছেন ফিরোজ মাহমুদ। কোনো তদন্ত, যাচাই-বাছাই বা কারণ দর্শানোর (শোকজ) সুযোগ দেওয়া হয়নি।
চক্ষু শিবিরের চিকিৎসক দলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কেউ ছিলেন—এমন অন্যায্য ও অসংগত অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। “একটি ভালো কাজ করার পর সবাই ধন্যবাদ জানাচ্ছে, অথচ আমাকে কোনো নোটিশ বা তদন্ত ছাড়াই পদচ্যুত করা হলো। এভাবে চললে ভবিষ্যতে কেউ সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসবে না।”
আব্দুল কাদের জসিম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বায়েজিদ থানা বিএনপি): “ভালো কাজে বাধা দিলে জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের বিষয়ে মহানগর নেতাদের সাথে কথা হয়েছে।”
বেলায়েত হোসেন বুলু (আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল): “কমিটি গঠনের পর ফিরোজ মাহমুদ নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ক্যাম্প চলাকালে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পদ স্থগিত করা হয়েছে, বহিষ্কার করা হয়নি। নগর কমিটি চাইলে যেকোনো সময় তাঁর পদ ফিরিয়ে দিতে পারে।”
একটি সেবামূলক আয়োজনের পর হঠাৎ এমন পদ স্থগিতের ঘটনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—গঠনমূলক ও মানবিক কাজের মূল্যায়ন না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া কতটুকু যৌক্তিক? এতে করে ভবিষ্যতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
আপনার এই খবরের বিষয়ে আর কোনো নির্দিষ্ট মতামত বা ভিন্ন কোনো ফরম্যাটে নিউজটি তৈরির প্রয়োজন আছে কি?
