চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কনস্টেবল নুরুল আফসারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মাদক ব্যবসার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: দুদকের হস্তক্ষেপ ও ডোপ টেস্টের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০৯

পুলিশ বাহিনীর মতো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জননিরাপত্তার রক্ষক প্রতিষ্ঠানে থেকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, নিরহ মানুষকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন এবং মাদক কারবারিদের সাথে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানার কনস্টেবল নুরুল আফসারের বিরুদ্ধে। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিক ও প্রতিবাদকারীকে হত্যার চেষ্টার এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রধান দিকসমূহ একনজরে:
ক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্যাশিয়ার সিন্ডিকেট: অতীতে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নুরুল আফসার পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশে যোগদান করেন। পুলিশে যোগদানের পর থেকেই কখনো ওসির ক্যাশিয়ার, কখনো ডিবির ক্যাশিয়ার, আবার কখনো পুলিশ কমিশনারের বডিগার্ড পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। কোমরে হাতকড়া ঝুলিয়ে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

মাদক সম্রাজ্ঞী ঝর্ণার সাথে গভীর সখ্য ও মাসোহারা বাণিজ্য: মোহরা কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণার ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসার মূল শেল্টারদাতা এই কনস্টেবল নুরুল আফসার। প্রতি মাসে এই স্পট থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায় করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এপিবিএন কর্তৃক মাদক উদ্ধার ও রহস্যজনক মুক্তি: সম্প্রতি ৯ নম্বর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ঝর্ণার স্পটে অভিযান চালিয়ে ২০০০ পিস ইয়াবা, ২০ কেজি গাঁজা ও নগদ ২ লক্ষ টাকাসহ তাকে গ্রেফতার করলেও রহস্যজনকভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়।

সচেতন নাগরিককে অপহরণ ও হত্যার চেষ্টা: মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এবং এপিবিএনকে তথ্য দেওয়ায় গত ১২ই অক্টোবর সচেতন নাগরিক মোহাম্মদ নাহিদকে আন্দরকিল্লা কদম মোবারক এলাকা থেকে কৌশলে অপহরণ করেন কনস্টেবল নুরুল আফসার। তাকে মাদক স্পটে নিয়ে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয় এবং পিস্তল দিয়ে গুলি করার চেষ্টা চালালে তিনি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। এই ঘটনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।

অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক: ক্ষমতার অপব্যবহার ও মাদক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কনস্টেবল আফসার বর্তমানে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পরিবারের সদস্যদের নামে এফডিআর এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান ও দাবি
একজন আইনপ্রয়োগকারীর পরিচয়ে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ বাহিনী ও জনগণের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতার এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়েছে:

১. তাৎক্ষণিক ডোপ টেস্ট (Drug Test): অভিযুক্ত কনস্টেবল নুরুল আফসার নিজে মাদকাসক্ত এবং মাদক চক্রের সাথে তার সরাসরি যোগসাজশ কতদূর বিস্তৃত, তা প্রমাণের জন্য অবিলম্বে তার ফরেনসিক ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করতে হবে।
২. চাকরি থেকে বরখাস্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা: ক্ষমতার অপব্যবহার, অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মতো জঘন্য ফৌজদারি অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. দুদকের (Anti-Corruption Commission) জরুরি হস্তক্ষেপ: একজন সাধারণ পুলিশ কনসটেবলের বেতন স্কেলের সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অবিলম্বে স্বউদ্যোগে অনুসন্ধানে নামতে হবে।

পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই ধরনের দুর্নীতিবাজ ও অপরাধী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।