অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিক আটক, মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মুস্কান ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানার বোতলজাতকরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর দৈনিক জনবাণী পত্রিকার সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনকে আটক করে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তাঁকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটক রাখার পর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে তাঁর মুক্তি ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি কে এম রুবেল।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন মুস্কান ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানার অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বোতলজাতকরণ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার এক কর্মকর্তা তাঁকে ডেকে নিয়ে আটক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হলে এসআই নুরুলুল্লাহ তাঁকে আটক করেন।

বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনাকে তাঁরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরএ) সাবেক সভাপতি সোহাগ আরফিন বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছে। এরপরও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সোহাগ আরফিন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনসহ কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান।

চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরএ) আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব সাইফুদ্দিন রমিজ বলেন, কোনো প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে কারও দ্বিমত থাকলে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে প্রতিবাদ জানানো কিংবা আইনগতভাবে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনকে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা থানায় আটক রেখে পরে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সাঙ্গু’র সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রতিনিধি নাছির উদ্দিন শিবলু, দৈনিক গণকণ্ঠের আমজাদ হোসেন, আনন্দ টিভির ইমরান হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আর কে হেলাল, অর্থ সম্পাদক হাসান তারেক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই উপজেলা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক সাকিব উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তাদের দাবি, কোনো সংবাদ বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জবাব ও আইনসম্মত প্রতিকারের পথ খোলা রয়েছে। তবে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়া এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।