back to top

খাতুনগঞ্জ থেকে খুচরা বাজার—দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির ঘোষণা

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ১৪:৩৯

চট্টগ্রামে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট ঠেকাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

“উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ” স্লোগানে ‘ফেস্টিভ সেল’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক বলেন, “চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। এবার এই চট্টগ্রাম থেকেই বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন এক মানবিক সংস্কৃতির যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎসব উপলক্ষে পণ্যে বিশেষ ছাড় বা ‘সেল’ দেওয়া হলেও বাংলাদেশে অনেক সময় কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়।

“উৎসবের আনন্দ শুধু নিজের পরিবার নিয়ে উপভোগের বিষয় নয়; সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়েই উৎসব উদযাপন করতে হয়।

যারা উৎসবের সময় সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়, তারা ব্যবসায়ী নয়, তারা রাষ্ট্রের শত্রু।”

জেলা প্রশাসক জানান, দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান মালিক সমিতি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শীর্ষস্থানীয় চেইন শপ—স্বপ্ন, আগোরা, বাস্কেট, শপিং ব্যাগ ও খুলশী মার্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। ঈদের আগে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, আটা, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।

পাইকারি বাজারে মূল্যহ্রাসের সুফল খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, “পাইকারি বাজারের এই ছাড় যেন সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চলবে। উৎসবে সাধারণ মানুষের আনন্দ নিশ্চিত করতে আইনের সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, ডিসি (প্রসিকিউশন) (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ, বিভিন্ন বাজারের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।