back to top

‘সম্পত্তির সন্ধান মেলেনি’, ঋণ আদায়ে এস আলম পরিবারের বিরুদ্ধে জেল পরোয়ানা

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬ ০৫:২৭

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ১১ জন দায়িকের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের দেওয়ানি সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালত-১–এর বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) মো. হেলাল উদ্দিন দীর্ঘ শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের এই ঋণ দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি অবস্থায় রয়েছে।

ঋণ আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নানা আইনি পদক্ষেপ নিলেও দায়িকদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, এই ঋণের বিপরীতে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়নি।

ডিক্রি জারির পরও দায়িকদের মালিকানাধীন কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফলে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩–এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী দায়িকদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত ব্যাংকের আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট ১১ জনের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের দেওয়ানি সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

সাজা পরোয়ানাপ্রাপ্তরা হলেন—ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গুফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলী, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), ওসমান গনি, মো. রাশেদুল আলম, ফারজানা বেগম, আবদুস সামাদ, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান, শহিদুল আলম, ফারজানা পারভীন এবং আহসানুল আলম।

আদালতের নথিতে তাঁদের বর্তমান ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকার ‘এস আলম হাউস’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকের পক্ষে এই আবেদন ও হলফনামা দাখিল করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ দিদারুল আলম মজুমদার।

মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট রকিবুল আনোয়ার।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের আর্থিক খাতে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়।

বিশেষ করে প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঋণ আদায়ে আদালতের এ ধরনের পদক্ষেপ ব্যাংক খাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

অর্থ ঋণ আদালতের এ আদেশ এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া সাজা পরোয়ানা কার্যকরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।