back to top

নৌবাহিনীর গবেষণা ও শিল্প সক্ষমতায় সন্তুষ্ট প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬ ১২:৩০

চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, প্রযুক্তি ও শিল্প স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনব্যাপী এ সফরে তিনি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং জাহাজ নির্মাণ খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খানে অবস্থিত আইএফএফ (IFF) সেন্টার পরিদর্শন করেন।

সেখানে তিনি কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আইএফএফ সেন্টার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণের কাজ করে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

পরে তিনি সেন্টার ফর নেভাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএনআরডি) পরিদর্শন করেন।

নৌবাহিনীর এই গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি পরিশোধন প্রযুক্তি, ড্রোন উন্নয়ন এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির চলমান গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কাছে।

একই সফরে তিনি চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন বেসামরিক জাহাজের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

এ সময় তিনি চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এরপর তিনি কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন লিমিটেড পরিদর্শন করেন।

সফরকালে প্রতিষ্ঠান দুটির বিদ্যমান সক্ষমতা, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন তিনি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পরিদর্শন শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দক্ষ জনশক্তির প্রশংসা করেন।

তিনি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতের টেকসই উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন ও মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পথও আরও সুদৃঢ় হবে।