ব্রাজিলের কোটি কোটি সমর্থকের জন্য এ যেন স্বস্তির এক বার্তা। দলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
পায়ের পেছনের মাংসপেশির চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে না পারলেও গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচেই তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করেছেন ইতালিয়ান এই কোচ।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে বেঞ্চে থাকলেও মাঠে নামা হয়নি নেইমারের।
আরও পড়ুন
এরপর হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের ম্যাচেও অনুপস্থিত ছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
তবে জয় শেষে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে আনচেলত্তি জানান, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেই ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে দেখা যাবে নেইমারকে।
আগামী ২৪ জুন ফ্লোরিডার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী নেইমার বর্তমানে চোট কাটিয়ে ওঠার শেষ ধাপে রয়েছেন।
শুক্রবারের ম্যাচের আগে ব্রাজিল দল জানিয়েছিল, নেইমার নিউ জার্সিতে থেকে পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
দ্বিতীয়-স্তরের কাফ ইনজুরিতে আক্রান্ত এই ফুটবলারের পুরোপুরি সুস্থ হতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে।
তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সন্তোষজনক অগ্রগতির কারণেই তাকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট।
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় শেষে আনচেলত্তি বলেন, “নেইমার আগামীকাল আলাদাভাবে অনুশীলন করবে এবং সোমবার দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সে ফিট থাকবে, তাকে খেলানো হবে।”
নেইমারের প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরেকটি কারণে।
দলের অন্যতম ভরসার আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রাফিনহা হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোটে পড়েছেন। তার অবস্থা নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথিউস কুনহা, রাফিনিয়া ও ইগোর থিয়াগো।
মরক্কোর বিপক্ষে দলের একমাত্র গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির বিপক্ষেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। অন্যদিকে দুটি গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন ম্যাথিউস কুনহা।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহা।
তবে নকআউট পর্বের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নেইমারের প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলকে আরও ভয়ংকর রূপ দিতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নেইমার কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ।

