back to top

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান: ১০ হাজার কর্মীর পুনর্বহালের দাবিতে স্মারকলিপি

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬ ০৮:০০

চট্টগ্রাম নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে সোমবার সকাল থেকেই জমে ওঠে এক ভিন্ন চিত্র।

দেশের পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া হাজারো কর্মকর্তা–কর্মচারী একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

তাঁদের দাবি-অন্যায়ভাবে চাকরি হারানো প্রায় ১০ হাজার কর্মীর পুনর্বহাল এবং ১০ দফা দাবির বাস্তবায়ন।

আন্দোলনকারীরা পরে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে পূর্বের সব সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বহাল, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদে দক্ষ ও পেশাদার নেতৃত্ব আনা, ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, রাজনৈতিকভাবে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, ক্যাশ সংকট সৃষ্টি করে গ্রাহকদের আতঙ্কিত করার অভিযোগে দায়ীদের শাস্তি এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ব্যাংক খাতে সব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত।

এই দাবিগুলো ঘিরে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর কারণে ব্যাপক ছাঁটাই ও প্রশাসনিক হয়রানি চালানো হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে।

তাদের দাবি, এসব ব্যাংকে যথাযথ মানবসম্পদ নীতিমালা অনুসরণ না করেই বদলি, আইডি নিষ্ক্রিয়করণ এবং পরে চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো ধরনের এইচআর নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।

অনেককে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি নিষ্ক্রিয় এবং শেষ পর্যন্ত চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শেষ হয় স্মারকলিপি প্রদান শেষে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।

এই ঘটনায় দেশের ব্যাংক খাতে কর্মপরিবেশ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক প্রভাব-সব মিলিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।