চটগ্রামের বোয়ালখালীতে পালিত হলো বুলবুলানন্দ মহারাজের প্রথম তিরোধান উৎসব।
এই উপলক্ষে করল ডেঙ্গা পাহাড়ে ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী চণ্ডী তীর্থ মেধস মনি আশ্রমে ছিলো সন্ত প্রবচন, বিশেষ পূজা, স্মরণসভা, সাধু ভান্ডারা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা আয়োজন।
শ্রী শ্রী চণ্ডী তীর্থ মেধসমনি আশ্রম পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন শীলের সভাপতিত্বে এবং শ্রীমৎ পরিতোষানন্দ মহারাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিমুল দাশ।
স্বামী বুলবুলানন্দ মহারাজের জীবনী পাঠ করেন আশ্রম পরিচালনা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহাত্মা মহারাজবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী বিবেকানন্দ পুরী মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী রবিশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী সংগীতানন্দ মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী ছত্রেশ্বরানন্দ সরস্বতী মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী চিন্ময়ানন্দ পুরী মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী উমেশানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীমৎ অভেদানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ, শ্রীল ১০৮ স্বরূপ দাশ বাবাজী, শ্রীমতী কানন দেবী এবং শ্রীমৎ দ্বারব্রহ্ম দাশ ব্রহ্মচারী।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের মহাত্মা মহারাজবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক পালিত, আশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত মজুমদার শংকর, ডা. তপন দাশ, নিপুণ দে, রাজেশ দাশ, সমীর দাশ, লিটন দে, রুবেল দেব প্রমুখ।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন পটিয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আশীষ চৌধুরী এবং ১০ নম্বর আহল্লা করলডেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক মন্নান।
এছাড়াও সনাতনী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, “শ্রদ্ধেয় স্বামী বুলবুলানন্দ মহারাজ ছিলেন সরলতা, ত্যাগ ও অহিংসার এক মূর্ত প্রতীক।
বিলাসবহুল জীবন ত্যাগ করে তিনি বোয়ালখালীর পাহাড়ঘেরা মেধস আশ্রমের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
আজ মহাতীর্থ মেধস আশ্রম যে গৌরবময় অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।”
তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে এই আশ্রমের অধ্যক্ষ ও মহারাজ হিসেবে শ্রীমৎ দীপানন্দ ব্রহ্মচারীর অভিষিক্ত হলো।
স্বামী বুলবুলানন্দ মহারাজের আদর্শ অনুসরণ করে তিনি আশ্রমের উত্তরোত্তর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সাধন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”
আগত বক্তারা পরম পূজনীয় স্বামী বুলবুলানন্দ মহারাজের আত্মার চিরশান্তি কামনা করে বলেন, তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও ধর্মীয় জীবনদর্শন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
মা চণ্ডীর চরণে প্রার্থনা জানানো হয়, তিনি যেন পরম গতি লাভ করেন এবং তাঁর প্রদর্শিত সৎ ও ধর্মীয় পথ সকলের জীবনকে আলোকিত করে।
অনুষ্ঠানে অদ্বৈত অচ্যুত চিকিৎসক ফোরাম বাংলাদেশের পরিচালনায় আগত ভক্তদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. অপূর্ব ধর, ডা. নেহেরু লাল ধর, ডা. শ্যামল সেন এবং ডা. এস. কে. পাল সুজন।
এ সময় প্রায় ২০০ জন ভক্তকে চিকিৎসাসেবা ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা প্রদান করা হয়।

