back to top

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগে জাইকার সহায়তা প্রত্যাশা চসিকের

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০৬

চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, সংগ্রহ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গঠনে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার নগরের টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ে বাংলাদেশে জাইকার নবাগত প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো (TAKAHASHI Junko) মেয়রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ সময় মেয়র ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলমান জাইকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের জন্য জাইকা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

প্রকল্পটির আওতায় চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাস্টার প্ল্যান (Waste Management Master Plan) প্রণয়ন, বর্জ্য হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়ন, সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ইন্টারমিডিয়েট ট্রিটমেন্ট (Intermediate Treatment) সিস্টেম উন্নয়ন, ডাম্পসাইটের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের প্রস্তুতি, পরিবেশগত শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা বর্জ্যের পৃথকীকরণ ও ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সাক্ষাৎকালে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো চট্টগ্রামে সংস্থাটির অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মেয়রকে অবহিত করেন এবং এসব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে চসিকের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দ্রুত বর্ধনশীল মহানগর। প্রতিদিন নগরীতে বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্প বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে।

নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

তাই একটি আধুনিক, দক্ষ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”

তিনি বলেন, “আমি একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।”

মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্কারমূলক ও আধুনিকায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রমবর্ধমান বর্জ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংগ্রহ, পরিবহন ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

প্রতিদিন উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কার্যকরভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রকৌশলগতভাবে জটিল খাত। এ কারণে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জাইকার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নগর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সফল কার্যক্রম চট্টগ্রামের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্যানিটারি ল্যান্ডফিল উন্নয়ন এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাইকার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

জাইকার সহযোগিতা পেলে আমাদের চলমান উদ্যোগগুলো আরও গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

সভায় জাইকার প্রতিনিধি হিদেকি ওসাওয়া (HIDEKI Osawa), ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ আবদুল্লাহ বিন হোসেন (Md. Abdullah Bin Hossain) এবং জাইকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জাতীয় বিশেষজ্ঞ গোলাম সারওয়ার (Golam Sarwar) উপস্থিত ছিলেন।