back to top

কারবালার শাশ্বত আদর্শে নতুন প্রজন্ম গড়ার ডাক: পটিয়ায় ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিল

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ১১:২৯

বিশেষ সংবাদদাতা :  

ইসলামের ইতিহাসে আত্মত্যাগ, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার চরম পরাকাষ্ঠা কারবালার চেতনা। সেই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও আদর্শিক জীবনে উদ্বুদ্ধ করার এক মহতী আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পটিয়ায়। উপজেলার দক্ষিণ হুলাইন নিমতল দরগাহ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী ‘শাহাদাতে কারবালা মাহফিল’-এর অষ্টম দিবসে বক্তারা মুসলিম উম্মাহর ঈমানি দায়িত্ব ও আহলে বাইতের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

ধর্মপ্রাণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং হৃদয়স্পর্শী অপার্থিব আবহে মঙ্গলবার বাদ আসর থেকে এশা পর্যন্ত এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীনতার শিক্ষা

মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কাতালগঞ্জ শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আল কাদেরী কারবালার হৃদয়বিদারক ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

“হযরত ইমাম হাসান (রা.) ও হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি মুমিনের ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার যে কালজয়ী শিক্ষা ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে দিয়ে গেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ব মুসলিমকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করবে।”

শিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আদর্শিক সমাজ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমান যুগে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার অপরিহার্যতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,

  • জ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই: জীবনে প্রকৃত অর্থেই প্রতিষ্ঠিত হতে হলে গভীর অধ্যয়ন ও জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

  • নৈতিকতার সমন্বয়: শুধু আধুনিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন শিক্ষার্থী ‘আদর্শ মানুষ’ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

  • ঐতিহ্যের লালন: নতুন প্রজন্মকে কোরআন ও সুন্নাহর আলোয় দক্ষ হয়ে ইমাম, কারী ও হাফেজ হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী এবং জাহানারা আলম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আলহাজ মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম টিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলের উদ্বোধন করেন ট্রাস্টের উপদেষ্টা মুহাম্মদ খোরশেদ আলম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন এতিমখানার দাতা সদস্য মুহাম্মদ হাছান।

ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা

হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হযরতুলহাজ্জ মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল কাদেরী (ম.জি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বিশাল আয়োজন পরিচালিত হচ্ছে। এই আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে: ১. নিমতল আহমদিয়া আমিরিয়া বশর মওলা সুন্নীয়া মাদরাসা। ২. ইসহাক ভান্ডারি নূরানী ইসলামি কিন্ডারগার্টেন। ৩. স্থানীয় ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী।

আগামী প্রজন্মের মাঝে ‘সহীহ দ্বীন’ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৬ জুন শুরু হওয়া এই আধ্যাত্মিক উৎসব আগামী ২৫ জুন সমাপনী দিবসের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এবারের মাহফিলের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “কারবালার শিক্ষা (সহীহ দ্বীন) ছড়িয়ে দিই আগামী প্রজন্মের মাঝে”

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিদিন ক্বিরাত, হামদ, নাত ও হাদর পরিবেশনার পাশাপাশি স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে “শিশু-কিশোরদের ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা”-র আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে তাদের প্রতিভা ও ইসলামী সংস্কৃতির দ্যুতি ছড়িয়েছে।

 মাহফিলের সময়সূচী: ১৬ জুন থেকে ২৫ জুন, ২০২৬
 মূল প্রতিপাদ্য: "কারবালার শিক্ষা ছড়িয়ে দিই আগামী প্রজন্মের মাঝে"
 অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগী: প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী

সমাপনী দিনের মহতি আয়োজন

আগামীকাল ২৫ জুন মাহফিলের সমাপনী দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মুহাম্মদ খোরশেদ আলম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হাটহাজারী উপজেলার হযরত গুন্ডীশাহ্ গাউছিয়া নুরীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মালেক তাহেরী।

সমাপনী দিনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সীতাকুণ্ড হযরত ইমামে আজম (রা.) জামে মসজিদের খতিব ও ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আবু মুহাম্মদ মুশফিক ইলাহী। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন ৯নং জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন বকুল।

আয়োজকদের দৃঢ় বিশ্বাস, কারবালার এই মহান ত্যাগ, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার শিক্ষা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নতুন প্রজন্মকে ইসলামের শাশ্বত মূল্যবোধে বলীয়ান করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।