চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চেচুরিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অস্বস্তি জমে উঠছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইয়াবা ও গাঁজার নেশাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হচ্ছিল উদ্বেগ, সামাজিক অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ।
অভিযোগ ছিল, কিছু ব্যক্তি সতর্কতার পরও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসছিলেন না।
আরও পড়ুন
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বরং অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলতেই থাকে। এতে ক্ষোভ বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বুধবার (২৪ জুন) সেই ক্ষোভেরই যেন একটি নাটকীয় পরিণতি ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দিন দুই যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন এলাকাবাসী।
পরে বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসন এবং পরিচালিত হয় মোবাইল কোর্ট।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
ঘটনাস্থলে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ, স্থানীয়দের সাক্ষ্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত বৈলছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেচুরিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. জসীম উদ্দিন (৩২)-কে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মোজাফফর আহমদের ছেলে মো. সরোয়ার আলম (৩৫)-কে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয় আলোচনা। অনেকের মতে, দুই ব্যক্তির দণ্ডাদেশ মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও জনসাধারণের যৌথ অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পশ্চিম চেচুরিয়ার এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে একটি পুরোনো বাস্তবতা—মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, প্রভাব ফেলে একটি পরিবারে, একটি সমাজে, এমনকি পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশে।
আর যখন অভিযোগ দীর্ঘ হয়, সতর্কতা উপেক্ষিত হয় এবং জনঅসন্তোষ চরমে পৌঁছে যায়, তখন আইনের হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
বুধবারের মোবাইল কোর্ট অভিযান সেই বাস্তবতারই আরেকটি দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে রইল বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেচুরিয়ায়।

