back to top

সাত ম্যাচে টানা গোল, মেসির বিশ্বরেকর্ডে উড়ে গেল জর্ডান

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ০৬:০৭

গ্রুপসেরা হওয়ার সমীকরণ আগেই মিলে গিয়েছিল। নকআউটের টিকিটও নিশ্চিত ছিল। তবে মাঠে নেমে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি আর্জেন্টিনা।

জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের অভিযান শেষ করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

আর সেই জয়ে আবারও আলো কেড়ে নিয়েছেন লিওনেল মেসি—গড়েছেন বিশ্বকাপের নতুন এক ইতিহাস।

ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা।

নকআউটের আগে বেঞ্চের শক্তি যাচাই করতে দুইজন ছাড়া বাকি নয়টি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবু খেলায় তাদের আধিপত্যে কোনো ঘাটতি ছিল না।

প্রথম গোল আসে ১৯ মিনিটে। জর্ডানের বক্সের সামনে আবু তাহার ফাউলে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন জিওভান্নি লো সেলসো।

মানব দেয়ালের ফাঁক গলে নেওয়া তার নিখুঁত শট ঠেকানোর সুযোগই পাননি জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লায়লা। বিশ্বকাপে এটিই লো সেলসোর প্রথম গোল।

৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তালিয়াফিকোর লো ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেজের শট ফিরিয়ে দেন ইয়াজিদ আবু লায়লা।

ফিরতি বলে হুলিয়ান আলভারেজের হেডও অসাধারণ দক্ষতায় বারের ওপর পাঠান তিনি। কিন্তু এরপর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আলভারেজকে বুট দিয়ে আঘাত করেন এহসান হাদ্দাদ।

রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পটকিক থেকে চলতি আসরে নিজের প্রথম গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতেই। তবে ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত দলগত আক্রমণ থেকে ব্যবধান কমায় জর্ডান। এহসান হাদ্দাদের বাড়ানো বল স্লাইড করে দারুণ ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান আল তামারি।

তবে জর্ডানের আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। আর মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে নিজের উপস্থিতি জানান দেন স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে।

পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক-আলিস্টার, সেনেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির তৈরি করা ফাঁক কাজে লাগিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

জর্ডানের দ্বিস্তরের মানব দেয়াল ও গোলরক্ষক—দুজনকেই পরাস্ত করে জালে জড়ায় বল।

এই গোল শুধু আর্জেন্টিনার জয়ই নিশ্চিত করেনি, লিখেছে নতুন ইতিহাসও।

রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই নতুন কীর্তি গড়ে চলেছেন মেসি।

আগের ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছিলেন তিনি। এবার সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেলেন ১৯-এ।

এর সঙ্গে গড়লেন আরও বড় এক বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নজির আর কারও নেই।

এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়ারজিনহো (১৯৭০)।

জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন এলএমটেন।

চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ গোল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের পর এবার জর্ডানের জালেও বল পাঠালেন তিনি।

ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার আধিপত্য ছিল পরিসংখ্যানেও। ৭৪ শতাংশ বলের দখল রাখার পাশাপাশি ১১টি শট নেয় স্কালোনির দল, যার তিনটিই ছিল লক্ষ্যে এবং তিনটিই জালে।

বিপরীতে জর্ডান চারটি শটের মাত্র একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। আর্জেন্টিনার তিনটি গোলের সুযোগই এসেছে জর্ডানের নিজেদের বক্সের সামনে কিংবা গোলমুখে করা অপ্রয়োজনীয় ফাউল থেকে।

গ্রুপপর্বে টানা তিন জয় নিয়ে দাপটের সঙ্গে নকআউটে উঠেছে আর্জেন্টিনা। চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই জয় পাওয়া অন্য দুই দল ফ্রান্স ও মেক্সিকো।

তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম একটাই—লিওনেল মেসি। মাঠে নামলেই যেন নতুন কোনো রেকর্ড তার অপেক্ষায় থাকে।