চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীতে ‘এমভি বে হারবার ২’ নামের পাথরবোঝাই একটি লাইটার জাহাজ ডুবে গেছে। নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় দুটি লাইটার জাহাজের সংঘর্ষে পাথরবোঝাই জাহাজটি ডুবে যায়।
তবে স্থানীয়দের সহায়তায় জাহাজে থাকা ১২ জন নাবিকের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ৩টার দিকে কর্ণফুলী নদীর চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের ২ ও ৩ নম্বর বয়ার মাঝামাঝি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বন্দর ও কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, রাতের ঘন কুয়াশার মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি লাইটার জাহাজের সঙ্গে ‘এমভি বে হারবার-২’-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের ফলে জাহাজটির খোল ফেটে দ্রুত পানি প্রবেশ করতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই পাথরবোঝাই জাহাজটি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় জাহাজে থাকা ১২ জন নাবিক পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের একটি উদ্ধারকারী দল মেটাল শার্ক ও বিশেষ উদ্ধারকারী বোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
উদ্ধারকারীরা সমুদ্র থেকে আটজন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেন। এদিকে প্রবল স্রোতের কারণে অপর চার নাবিক দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে যান।
পরে আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকায় স্থানীয় জেলে ও সৈকতে থাকা লোকজন তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাথর নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (মিডিয়া) সাব্বির হোসেন বলেন, রাতে কর্ণফুলী চ্যানেলে লাইটার জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পরপরই নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে দ্রুত অভিযান শুরু করা হয়।
তবে রাতের অন্ধকার, ঘন কুয়াশা ও তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় জাহাজে থাকা ১২ জন নাবিককেই অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. নাছির উদ্দিন বলেন, নদী চ্যানেলে জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলটি নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে অন্য কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে।
তিনি বলেন, ডুবে যাওয়া জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে অবস্থান করায় বড় জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
বর্তমানে ওই চ্যানেল দিয়ে বন্দরে অন্যান্য জাহাজ ও লাইটার চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় নৌযানগুলোকে সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে লাল বয়া স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় জাহাজটি উদ্ধারে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

