back to top

রেকর্ড গড়েও ব্যর্থ থ্রি লায়ন্স, ঘানার সংগঠিত রক্ষণে আটকাল আক্রমণভাগ

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ০৫:৩০

বিশ্বকাপে এক আসরে গ্রুপ পর্বে রেকর্ড ১৩৭ গোল হওয়ার পর যেন আচমকাই নেমে এল গোলখরা।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলের মধ্য দিয়ে গড়া সেই রেকর্ডের পরের ম্যাচেই দেখা মিলল টুর্নামেন্টের প্রথম গোলশূন্য ড্রয়ের।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও ঘানা একে অপরকে ভেদ করতে ব্যর্থ হয়ে মাঠ ছাড়ে ০-০ সমতায়।

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা দুই দলই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলেও ফলাফলটি ইংল্যান্ডের জন্য ছিল অনেক বেশি হতাশার।

বিপরীতে, অনবদ্য রক্ষণভাগের প্রদর্শনীতে নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে ঘানা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুই ম্যাচে নিজেদের জাল অক্ষত রাখল ব্ল্যাক স্টাররা।

ম্যাচের শেষদিকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, আর কয়েক মিনিট সময় পেলে হয়তো জয়সূচক গোলটি পেয়েও যেতে পারত থ্রি লায়ন্সরা।

সবচেয়ে কাছাকাছি সুযোগটি আসে বুকায়ো সাকার পা থেকে। তার জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে।

এরপর ও’রেইলির হেড ক্রসবারের নিচে লেগে ফিরে আসে, আর ফিরতি বলে হ্যারি কেইনের শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

মার্ক গেহির একটি হেডও শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ঘানার ডিফেন্ডাররা।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল ও সমর্থকদের জন্য এটি ছিল কঠিন এক সন্ধ্যা। তবে প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর সুবাদে চার পয়েন্ট নিয়ে এখনও ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড।

শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে তারা।

অন্যদিকে, পানামাকে ১-০ গোলে হারানো ঘানাও সমান চার পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

প্রথমার্ধে ঘানার সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে কার্যত অসহায় দেখিয়েছে ইংল্যান্ডকে। বিরতির আগে কোনো দলই লক্ষ্যে একটি শট নিতে পারেনি, যা চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ঘটল।

প্রথম ৪৫ মিনিটে ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও ইংল্যান্ডের ছয়টি শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

পুরো ম্যাচে তারা নেয় ১৯টি শট, যার মাত্র চারটি ছিল লক্ষ্যে এবং সবগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে।

ঘানা শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। চারজনের দুটি ডিফেন্সিভ লাইনের মাঝখানে থমাস পার্টিকে রেখে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলেছে তারা দারুণভাবে।

যদিও ডেকলান রাইসের দূরপাল্লার একটি শক্তিশালী শট পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।

মাদুয়েকের ক্রস থেকে পাওয়া সুযোগে রাইস হেডে বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পরে হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।

কিন্তু ঘানার গোলরক্ষককে বড় কোনো পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি ইংল্যান্ড। বরং সুসংগঠিত এই রক্ষণভাগ ভেদ করে বিপজ্জনক এলাকায় পৌঁছাতেই হিমশিম খেয়েছে তারা।

প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচে দেখা দেয় উত্তেজনা। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা জুড বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সতীর্থরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ম্যাচ শেষে বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের সঙ্গী হয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে এটি তাদের ২৩তম ড্র, যার মধ্যে ১৩টিই গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে কোনো দলের জন্য দুটি সংখ্যাই সর্বোচ্চ।

এ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখলের হার ছিল ৭৮.৮ শতাংশ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, আধুনিক ফুটবলে এ ধরনের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর গোল করতে ব্যর্থ কোনো দলের জন্য এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের নজির।

আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন মার্ক গেহি। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে তার ১২৬টি সফল পাস এখন সর্বোচ্চ।

পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো ডিফেন্ডারের এক ম্যাচে সর্বাধিক ফ্রি-কিক আদায়ের রেকর্ড।

গোলশূন্য ড্র হলেও ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে ঘানার দুর্ভেদ্য রক্ষণ, ইংল্যান্ডের ব্যর্থ আক্রমণ এবং একের পর এক রেকর্ডের জন্য।

তবে নকআউটের টিকিট এখনও নিজেদের হাতেই রেখেছে দুই দল। শেষ ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে গ্রুপ পর্বের শেষ হাসি কার মুখে ফুটবে।