বিবেকানন্দের আদর্শে সমাজসেবা ও মূল্যবোধভিত্তিক মানুষ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ।
এতে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জি. আশুতোষ, আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. সুকান্ত রায়।
শুক্রবার রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনের সবিতা ভবনের স্বামী অক্ষরানন্দ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পরিষদের ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পরিষদের শাখা প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালনা পর্ষদ (ঢাকা)-এর সভাপতি এবং সংগঠনের উপদেষ্টা বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ এবং বিবেকানন্দ স্টাডি সার্কেলের সভাপতি দেবাশীষ পাল।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
পরে উদ্বোধনী পর্ব, বার্ষিক ও আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, প্রতিনিধিদের মুক্ত আলোচনা, বিভাগীয় সম্পাদকদের প্রতিবেদন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা এবং ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ ও সম্পাদক স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ আশীর্বচন প্রদান করেন।
তিনি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের মানুষ গড়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজসেবা এবং যুবসমাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশে পরিষদের সব পর্যায়ের কর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকার আহ্বান জানাতে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণিকা কাব্যগ্রন্থের ‘কর্তব্যগ্রহণ’ কবিতা থেকে চারটি চরণ উদ্ধৃত করেন—
‘কে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যা রবি—
শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি।
মাটির প্রদীপ ছিল, সে কহিলো, স্বামী,
আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি।’
বক্তারা বলেন, বিবেকানন্দের মানবকল্যাণের দর্শনকে সামনে রেখে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা এবং তরুণ প্রজন্মের নৈতিক বিকাশে পরিষদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি কাজ করবে।

