গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। সামনে নকআউটের হাতছানি। তাই জয়ের বিকল্প ছিল না প্যারাগুয়ে কিংবা অস্ট্রেলিয়া—কোনো দলেরই। সেই তাড়না নিয়েই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দল।
তবে সুযোগের পর সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত কেউই খুঁজে পায়নি কাঙ্ক্ষিত গোল। ফলে রোমাঞ্চকর লড়াইটি শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়।
শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া।
তৃতীয় মিনিটেই জ্যাকসন আরভিনের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।
এরপর জর্ডান বস, ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো ও নেস্টোরি ইরানকুন্ডাও কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করেন, কিন্তু গোলের দেখা পাননি।
অন্যদিকে প্যারাগুয়েও বসে থাকেনি। পাল্টা আক্রমণে গ্যাব্রিয়েল আভালোস, হুলিও এনসিসো ও দিয়েগো গোমেজ একাধিকবার অস্ট্রেলিয়ার গোলমুখে হুমকি তৈরি করেন।
তবে তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই বুঝিয়ে দেয়, এক পয়েন্ট নয়—তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই তারা মাঠে নেমেছে।
৫০ মিনিটে মৌরিসিওর দূরপাল্লার জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন প্যাট্রিক বিচ। সেই সেভ ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকে।
অন্য প্রান্তে সমান দৃঢ় ছিলেন অরল্যান্ডো গিল। জর্ডান বস ও টেতে ইয়েঙ্গির নেওয়া শটও তিনি ঠেকিয়ে দেন নির্ভরতার সঙ্গে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, কিন্তু গোলের খাতা আর খোলা হয়নি।
যোগ করা সময়েও দুই গোলরক্ষক নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেন। গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেভ করে দলকে হার থেকে বাঁচান গিল ও বিচ।
শেষ পর্যন্ত ৯৫ মিনিটের লড়াইয়ে কোনো দলই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে না পারায় ম্যাচ শেষ হয় ০-০ সমতায়।
তবে এই ড্রয়ের মূল্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য অনেক বেশি। গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা।
অন্যদিকে শেষ ৩২-এ জায়গা পাওয়ার সমীকরণ এখনও পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেই প্যারাগুয়ের। তাই পরবর্তী ফলাফলের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।
গোল না থাকলেও ম্যাচটি ছিল উত্তেজনা, আক্রমণ আর দুই গোলরক্ষকের অনবদ্য নৈপুণ্যে ভরপুর—যেখানে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্জনটি তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়াই।

