ভক্তি, কীর্তন আর উৎসবের আবহে নগরজুড়ে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৫৮

চট্টগ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি আর উৎসবের আবহে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা

শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন, ঢাক-করতাল ও ভক্তিমূলক সংগীতের সুরে বৃহস্পতিবার নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ।

হাজারো ভক্ত, অনুরাগী ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পায় চট্টগ্রামের রাজপথ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক মোড়ে অবস্থিত ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা শুরু হয়।

এবারের রথযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’।

রথযাত্রার আয়োজন করেছে সনাতনী ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ শ্যামলী পরিবার। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী হাজারো মানুষ ভক্তিভরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

কীর্তনের সুর, শঙ্খধ্বনি, ঢাক ও করতালের তালে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, রথটি প্রবর্তক মোড় থেকে যাত্রা শুরু করে চট্টেশ্বরী রোড, কাজীর দেউড়ি মোড় অতিক্রম করে নন্দনকাননে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রথযাত্রাকে ঘিরে পুরো সড়কজুড়ে ছিল বর্ণিল সাজসজ্জা ও উৎসবের আবহ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

রথযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তরা পরমেশ্বর ভগবান জগন্নাথ, বলদেব ও দেবী সুভদ্রার কৃপা লাভের আশায় পরম শ্রদ্ধায় রথের রশি টেনে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

অনেকে ফুল, ফল ও প্রসাদ নিবেদন করে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করেন।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রা উপলক্ষে ভগবান জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা রথে চড়ে মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরে গমন করেন।

নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রা বা বাহুড়া যাত্রার মাধ্যমে তাঁরা নিজ মন্দিরে ফিরে আসেন।

এই রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতি বছর ভক্তদের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে।