বিজয়ের বিদায়ী মঞ্চে আবেগ ও সংঘাতের ‘জন নায়গন’

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৬

সাত মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গতকাল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে তামিল তারকা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জন নায়গন’।

অভিনয়জীবনের শেষ ছবি হিসেবে মুক্তির আগেই সিনেমাটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল তুমুল উন্মাদনা। আর মুক্তির পর সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেল বক্স অফিসেও।

ট্রেড ওয়েবসাইট স্যাকনিলকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে ৪১ কোটি রুপি আয় করেছে ‘জন নায়গন’। ভারতে সিনেমাটির প্রদর্শনীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজারের বেশি।

ভারতে মোট ৪৮ কোটি ২৭ লাখ রুপি এবং বিদেশে ৩০ কোটি রুপি (গ্রস) আয় মিলিয়ে মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ কোটি ২৭ লাখ রুপি।

তবে শুধু বক্স অফিসের অঙ্কেই শেষ নয় ‘জন নায়গন’-এর গল্প। কারণ, এটি বিজয়ের অভিনয়জীবনের শেষ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা।

ফলে পর্দায় তাঁকে শেষবারের মতো দেখার আবেগেই অনেক দর্শকের কাছে সিনেমাটি পেয়েছে আলাদা গুরুত্ব।

মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায়ও সেই আবেগের ছাপ স্পষ্ট।

অনেকেই প্রশংসা করেছেন পর্দায় বিজয়ের উপস্থিতি ও আবেগঘন মুহূর্তগুলোর। তবে সিনেমার গল্প, প্রায় তিন ঘণ্টার দৈর্ঘ্য এবং বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্নমত।

এইচ বিনোথ পরিচালিত অ্যাকশন-ড্রামা ‘জন নায়গন’ এ থালাপতি বিজয় অভিনয় করেছেন ভেত্রি কোন্ডান নামের এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে।

নিজের দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু মেয়েটির অতীতের মানসিক ট্রমা সেই অঙ্গীকার পূরণের পথে তৈরি করে নানা জটিলতা।

এরই মধ্যে গল্পে হাজির হন বলিউড অভিনেতা ববি দেওল। তিনি অভিনয় করেছেন খলনায়ক জন হিমলার চরিত্রে, যিনি ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসেন।

এরপরই ভেত্রি কোন্ডান ও জন হিমলারের মুখোমুখি সংঘাতকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় সিনেমার মূল গল্প।

পর্দায় বিজয়ের উপস্থিতি যে এখনও দর্শকদের কাছে কতটা শক্তিশালী, মুক্তির পরের প্রতিক্রিয়াগুলোতে সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।

অনেক দর্শকের মতে, সিনেমার গল্পে নতুনত্বের ঘাটতি থাকলেও বিজয়ের পর্দা-উপস্থিতি আগের মতোই আকর্ষণীয়। তাঁর সঙ্গে মমিতা বাইজুর আবেগঘন রসায়নও প্রশংসা পেয়েছে।

সিনেমার আরেকটি বড় প্রশংসিত দিক অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। দর্শকদের একাংশের মতে, আবেগঘন দৃশ্যগুলোর অনুভূতিকে আরও গভীর করেছে তাঁর সংগীত।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও কম নেই। অনেক দর্শকের মতে, সিনেমার গল্প বেশ পরিচিত ধাঁচের।

প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ দৈর্ঘ্যও ছবিটির গতি কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

একজন দর্শক এক্সে লিখেছেন, ‘খুবই গড়পড়তা ছবি। প্রথমার্ধ মোটামুটি, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্ল্যাশব্যাক কিছুটা বাঁচিয়েছে। কিন্তু তিন ঘণ্টার সিনেমা হিসেবে এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ।’

অন্য এক দর্শক ছবিটিকে ৫-এর মধ্যে ৩.২৫ রেটিং দিয়ে ‘বিনোদনমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিজয় ও মমিতা বাইজুর আবেগঘন রসায়ন ভালো লেগেছে।

অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের সংগীতও ছবিটিকে বাড়তি শক্তি দিয়েছে। তবে খলনায়কের ভূমিকায় ববি দেওলের চরিত্র যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেও মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, সিনেমাটি আরও সংক্ষিপ্ত হলে দর্শকের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতে পারত। তবুও টাইটেল কার্ড, ইন্টারভ্যাল ব্লক এবং পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্যকে তিনি ছবির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সব মিলিয়ে ‘জন নায়গন’ নিয়ে দর্শকের রায় একেবারে একমুখী নয়। কারও কাছে এটি বিজয়ের আবেগঘন বিদায়, কারও কাছে পরিচিত গল্পের দীর্ঘ এক অ্যাকশন-ড্রামা।

কিন্তু একটি জায়গায় যেন দর্শকের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই-এটি বিজয়ের শেষ অভিনীত সিনেমা।

আর সেই কারণেই গল্পের সীমাবদ্ধতা, দৈর্ঘ্য কিংবা দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ‘জন নায়গন’ অনেক ভক্তের কাছে হয়ে উঠেছে একটি আবেগের নাম।

সেই আবেগই হয়তো দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনে নিচ্ছে-পর্দায় থালাপতি বিজয়কে শেষবারের মতো দেখার জন্য।

‘থালাপতি বিজয়ের বিদায় উদ্‌যাপনের জন্য ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখার মতো’-দর্শকের এই মন্তব্যই যেন পুরো সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত প্রকাশ।