পুলিশের অভিযানে ‘শীর্ষ’ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, আহত দুই কনস্টেবল

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৮

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলগেট এলাকায় এক নাটকীয় ও রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ও শীর্ষ মাদক কারবারি আলমগীর হোসেনকে।

শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের আকস্মিক হামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল আলমগীরকে গ্রেপ্তারে আমবাগান রেলগেট এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই আলমগীর ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর জখম হন।

রক্তাক্ত অবস্থায় দুই কনস্টেবলকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কনস্টেবল মুবিনুল ইসলামের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

প্রধান সন্ত্রাসী আলমগীরকে হাতকড়া পরানো সম্ভব হলেও তার সহযোগীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে।

পাল্টাধাওয়া ও দফায় দফায় গুলিবিনিময়ে মুহূর্তের মধ্যে আমবাগান ও এর আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গোলাগুলির বিকট শব্দে পুরো এলাকায় চরম ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সটকে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং এলাকায় লুকিয়ে থাকা অন্য সন্ত্রাসীদের গ্রপ্তার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে এখনো তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অপারেশন নিশ্চিত করে যা বললেন সিএমপি কর্মকর্তা: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমি নিজেই সরাসরি অভিযানে আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে, এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর নগরের লালখান বাজার, আমবাগান, খুলশী ও রেলক্রসিং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিএমপির চোখ ফাঁকি দিয়ে অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইয়ের সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিল।

তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে।

সিএমপির একাধিক ইউনিট তাকে গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে জাল বুনছিল।

অবশেষে শনিবার রাতের এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে অবসান ঘটলো এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীর অপরাধ রাজত্বের।